চৌগাছার মাকাপুর মাদরাসায় পাস করেনি কেউ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় ৬৭টি স্কুল ও মাদরাসার মধ্যে দু’টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করলেও মাকাপুর দাখিল মাদরাসার সকল পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। এদিকে ওই মাদরাসার ২২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৪৪ টি স্কুল থেকে মোট ২ হাজার ৯’শ ৫১ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ৫’শ ১০ জন। এরমধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১’শ ৪৯ জন। উপজেলায় পাশের হার ৮৫.০৫।

এছাড়া ২১ টি মাদরাসা থেকে ৫ শ’৮৯ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৪ শ ৪৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। উপজেলায় পাশের হার ৭৫.৭২।

উপজেলায় শতভাগ পাশ করেছে উপজেলার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো মাকাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সিংহঝুলী আলিম মাদরাসা। মাকাপির বিদ্যালয় থেকে ৪৪ জন অংশ নিয়ে সকলেই পাস করেছে। আর সিংহঝুলী আলিম মাদরাসা থেকে ২৪ জন পরীক্ষা দিয়ে সকলেই কৃতকার্য হয়েছে।

শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান দু’টির প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম এবং মাওলানা মখলেছুর রহমান জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সাথে সমন্বয় করে পাঠদান করায় তারা শতভাগ সফলতা পেয়েছেন।

শতভাগ ফেল করা মাকাপুর দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা তরিকুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘আমি ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করছি। বিগত দশ বছরে প্রতিষ্ঠানটির গড় পাসের হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি। এ বছরে ২২ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করবেনা এ বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারছিনা। আমার বিশ্বাস প্রযুক্তিগত কোনো ত্রুটির কারনে এমন বিপর্যয় হয়েছে। ফলাফল পূনঃবিবেচনার জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ডে আবেদন করব। তিনি আরো জানান, মাদ্রাসাটিতে প্রায় ২’শ ছাত্র-ছাত্রী ও ১৭ জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। বিগত বছর গুলোতে কাম্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী না থাকায় এম.পি.ও’র জন্য আবেদন করতে পারিনি। এবছর কাম্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী ছিল। কিন্তু অনাকাঙ্খিত ফলাফল মেনে নিতে পারছিনা’।

প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমান উদ্দীন বলেন, ‘মাদরাসায় সাধারণত দূর্বল ছেলে মেয়েদের পড়তে দেয়া হয়। তার পরেও এখানকার শিক্ষকরা চেষ্টা করেন। যে কারনে বিগত বছরগুলোতে ভালো ফলফলাল অর্জন করতে পেরেছে  প্রতিষ্ঠানটি। এ বছর কেন এমন হয়েছে বলতে পারছিনা’।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম রফিকুজ্জামান বলেন, এই মাদরাসার পূর্বের এক দশকের ফলাফল খুবই ভালো। প্রযুক্তিগত কোনো ত্রুটি হতে পারে। তিনি আরো বলেন এ বিষয়ে মাদরাসাটির সুপারকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেয়া হয়ছে।

স্বাআলো/এসএ