চৌগাছায় জালিয়াতির মাধ্যমে দুই কলেজে উপবৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : যশোরের চৌগাছায় তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ ও পাশাপোল আমজামতলা কলেজে জালিয়াতি করে উচ্চ মাধ্যমিকে উপবৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কলেজ দুইটির ভুল তথ্য দিয়ে উপবৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো হয়।

জানা গেছে, তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজে ওই শিক্ষাবর্ষে কারিগরি ও সাধারণ শাখায় ২৭৫ থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সেই হিসেবে তারা ৭০ থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থীর কাছাকাছি উপবৃত্তি পাবেন। কিন্তু ৩০০ জন অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর নাম দিয়ে তারা ১০৪ জনকে উপবৃত্তি দেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন। পাশাপোল আমজামলতলা কলেজে কারিগরি ও সাধারণ শাখায় ২০০ থেকে ২৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। সেই হিসেবে তারা ৫৫ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি পাবেন। কিন্তু অতিরিক্ত ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর নাম দিয়ে তারা ১০৫ জনকে উপবৃত্তির তালিকাভুক্ত করে।

তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, উপবৃত্তির তালিকা করার সময় ভুল করে তার কলেজে বেশি শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছিল। তার অফিস থেকে না বুঝে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের এখনো বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি। তাবে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের শতকরা হারে যে কয়েকজন উপবৃত্তি পাবে তাদের বাইরে কারো বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হবে না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে তিনি লিখিতভাবে ভুল স্বীকার করেছেন।

পাশাপোল আমজামতলা কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, তার কলেজে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে উচ্চ মাধ্যমিকে কারিগরি ও সাধারণ শাখায় ৩৭১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তারমধ্যে ২০০ জন মেয়ে রয়েছে। শতকরা ৪০ জন মেয়ে উপবৃত্তি পায়। সেই হিসেবে তার কলেজে ৯০ জনের কাছাকাছি উপবৃত্তি পাবে। কিন্তু কতজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছেন সেটা তার জানা নেই।

চৌগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম রফিকুজ্জামান বলেন, উপবৃত্তির সংখ্যা বাড়াতে তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ ও পাশাপোল আমজামতলা কলেজ জালিয়াতি করে ভুল তথ্য দিয়েছে। জানাজানি হওয়ার পর তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ লিখিতভাবে ভুল স্বীকার করেছে। আর পাশাপোল আমজামতলা কলেজের অধ্যক্ষ সময় ক্ষেপন করছেন। তথ্য দিচ্ছেন না।

স্বাআলো/এসএ