কুড়িগ্রামে ধরলার পানি একদিনে বেড়েছে ২৪ সেন্টিমিটার

জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। নদ-নদী তীরবর্তী মানুষ আবারও নতুন করে দুর্ভোগের আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ৭-৮ দিন ধরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যার্তদের।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেলেও ধরলার পানি আবারও ২৪ সেন্টিমিটার বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, জেলার ৫৬টি ইউনিয়নের ৫৭৯টি গ্রাম বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে ৫ শতাধিক পরিবার।

অপরদিকে, বন্যাকবলিত এলাকার বেসরকারি তথ্যমতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দেড় লক্ষাধিক। গত দুদিন ধরে ভারি বর্ষণের কারণে সড়ক ও বাঁধের উপর আশ্রিত মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট আরও প্রকট হয়েছে। বন্যা দুর্গত নারী, শিশু-কিশোরী ও বৃদ্ধরা স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে পড়েছে চরম দুর্ভোগে।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, সরকারের পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। চাহিদা মোতাবেক পর্যায়ক্রমে তা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও ৩৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, জেলায় ৯ হাজার ৭৮৯ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বোর ধানের বীজতলা ৫৩২ হেক্টর, আউশ ধান এক হাজার ৯৫৫ হেক্টর, শাকসবজি ৮৬০ হেক্টর, তিল ৩০২ হেক্টর, কাউন ২০ হেক্টর, চিনা ১৪০ হেক্টর, মরিচ ১৪০ হেক্টর এবং পাট ক্ষেত ৫ হাজার ৮৪০ হেক্টর। এসব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

কুড়িগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়হান আলী জানান, বন্যার্তদের মধ্যে ২৫ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ কীট সরবরাহ করা হয়েছে। নতুন করে বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় স্থাপন করা হয়েছে ১২টি টিউবওয়েল ১২টি ল্যাট্রিন। মেরামত করে দেওয়া হয়েছে ৪৩৫টি টিউবওয়েল। বন্যার্তদের মধ্যে প্রতিদিন দুটি বিশুদ্ধ পানির ভ্রাম্যমাণ প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ৪ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

স্বাআলো/জি