চৌগাছায় রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট-খোয়া, বালুর পরিবর্তে মাটি!

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় নিম্নমানের ইট, খোয়ার সাথে বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে রাস্তা পাকা করার অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।  স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কোন লোকজনই রাস্তাটির সাইটে ঠিকমত আসেন না।

উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের কড়ইতলা-কয়ারপাড়া ইটের রাস্তা (এইচবিবি ও সোলিং) উঠিয়ে পিচ  দিয়ে পাকা করার কাজে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।

চৌগাছা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা সোহাগ হোসেন, হিরো আহমেদ, ফারুখ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন গ্রাম হবে শহর। সেই অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কের কাজ চলছে। কিন্তু এইসব রাস্তা পাকাকরণের কাজে শুরু থেকেই অনেক অনিয়ম করা হচ্ছে। রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট, খোয়ার সাথে বালু ব্যবহারের পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। মাটি ছিটিয়ে লেবেল করার চেষ্টা চলছে। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি এবং করছি। তবে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার আবুল কাশেম আমাদের কথার কোন পাত্তাই দেননি। তিনি বলেছেন আমরা এভাবেই কাজ করবো। আপনাদের যা করার করেন।

স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা বিএম উজ্জল হোসেন রনি বলেন, ইট, বালু, খোয়া কোনোটাই ঠিক নাই। যে পরিমাণ খোয়া ব্যবহার করার কথা, তার চেয়ে অনেক কম দেয়া হচ্ছে। খোয়া দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের। বালুও নিম্নমানের। রাস্তার দুই পাশে প্রথম শ্রেণির ইট দিয়ে এজিং করার কথা থাকলেও করা হচ্ছে তৃতীয় শ্রেণির ও কোথাও কোথাও দ্বিতীয় শ্রেণির ইট দিয়ে।

স্থানীয় কয়েকজন চা দোকানদার জানান, কাজটি একেবারেই জঘন্য হচ্ছে। উপজেলা এলজিইডি অফিসের কোনো লোকজকে রাস্তা নির্মান কাজ দেখার জন্য কোনোদিনই কাউকে আসতে দেখিনি তারা। উপজেলা প্রকৌশলীকে ফোনে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বরং উল্টো যারা অভিযোগ করছে তাদেরই ধমক দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির সাইট ম্যানেজার আবুল কাশেম বলেন, খোয়ার সাথে কিছু মাটি ছিল তাই দেয়া হয়েছে। আমরা নিয়মানুযায়ীই কাজ করছি। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের লোকজন নিয়মিত সাইট দেখতে আসছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, আমাদের লোক নিয়মিত কাজ তদারকি করছেন। আমরা অনিয়মের কোন অভিযোগ পাইনি। আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম খোয়ার সাথে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রমানণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে কত কিলোমিটার রাস্তার কাজ হচ্ছে এবং বরাদ্দের পরিমান জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

স্বাআলো/ডিএম