ইবির সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দেড় বছরেও কোন ব্যবস্থা হয়নি

ইবি প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আজীবন কাল তালিকাভুক্ত হওয়া ওবং নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনের শাস্তি হয়নি দেড় বছরেও। তথ্য গোপন করে আপন ভাইকে নিয়োগ দিতে গিয়ে আজীবনের কালো তালিকাভুক্ত হন তিনি।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর বার্তা প্রেরণ করা হয়। বার্তা প্রেরণের দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এ বছরের গত ৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ড. মাহবুবুল আরফিনকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তবে কারণ দর্শানোর নোটিশেই দায় সেরেছে ইবি প্রশাসন।

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার  ড.  হুমায়ুন করীব জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরেফিন। ঐ বোর্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার উচলিয়া পারা (বড়বাড়ী) সরাইলের  ড. দেলোয়ার হোসেন। তিনি ইবির হিসাববিজ্ঞান বিভাগ হতে ২০০৩ সালে অনার্স এবং বেসরকারী আশা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০১২ সালে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন।

ড. আরেফিন নিয়োগ বোর্ডের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে দেলোয়ারকে লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীণ করিয়েছিলেন। মৌখিক পরীক্ষায় কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলেও বোর্ডকে প্রভাবিত করে তাকে নিয়োগ দিতে চাপ দিতে থাকেন ড. আরফিন। কিন্তু উপাচার্য অধ্যাপক এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান কোনভাবেই অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে সম্মত না হলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়।

অধ্যাপক মাহবুবুল আরেফিন তথ্য গোপন করে বোর্ডকে প্রভাবিত করে তার নিজের ভাইকে নিয়োগ দেয়ার সব ধরণের অপচেষ্টা করায় হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি মাসুদ রানা অনুষদীয় ডীনের মাধ্যমে লিখিতভাবে অধ্যাপক মাহবুবুল আরফিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন।

তদন্ত শেষে জানা যায়, ড.দেলোয়ার অধ্যাপক আরিফিনের আপন ভাই।  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুসারে কোন শিক্ষকের নিকট আত্নীয় পরীক্ষায় অংশ নিলে তিনি ঐ পরীক্ষার কোন কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারবেন না, নিয়োগ বোর্ডেও নয়।

তদন্তের প্রেক্ষিতে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২তম সিন্ডিকেট ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর তথ্য গোপনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে বিষয়টি গর্হিত অন্যায় ও নৈতিকতাবিরোধী অপরাধ চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞ সদস্য হতে অপসারণ ও আজীবনের জন্য তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে এবং ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকান্ডে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিঠি প্রাপ্তির পর ড. মাহবুবুল আরফিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবস্থাগ্রহণ স্থগিত আছে। তার মানে এই নয় যে ব্যবস্থাগ্রহণ হবে না।

জানা যায়, অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে।২০১৯ সালের জুনে এক নারীর সঙ্গে তার আপত্তিকর কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়। একই বছরের ২১জুলাই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

স্বাআলো/ডিএম