চৌগাছায় নির্মণের এক সপ্তাহেই পানিতে ভেসে গেলো এডিবি প্রকল্পের ড্রেন

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় নির্মিত এই ড্রেন নির্মানের সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে। রবিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ধ্বসে যাওয়া ওই ড্রেনের ইট পরিস্কার করছেন।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির থেকে পানি নিস্কাশনের জন্য বাওড় পর্যন্ত ড্রেন নির্মান প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। জুন মাসের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এই ড্রেন নির্মান করে। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন নির্মাণ কাজটি সরেজমিনে পর্যবক্ষেণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে বিল প্রদান করেন। কিন্তু অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় গত সপ্তাহে বৃষ্টিতে ওই ড্রেনটি ধ্বসে পড়ে ইটসহ অন্যান্য সামগ্রী ভেসে যায়।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দিরসহ কয়েক জায়গাতে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। এসব ড্রেন নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করায় এসব ড্রেনের পাশ্ববর্তী জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি বার বার অবহিত করলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, এডিবির বরাদ্দে এই ড্রেন নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছে। যে কারণে ড্রেনটির সিমেন্ট, বালু বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গিয়ে ধ্বসে পড়েছে।

ড্রেন নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মিলন মিয়া বলেন, নির্মানের প্রায় বিশ দিনের মধ্যেই ড্রেনটি বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে ভেসে গেছে। ড্রেন নির্মাণের সময় পানি পড়ার জায়গায় একটি হাউজ তৈরি করলে এমন হতো না।

এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন ড্রেনটি নির্মান কাজের কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙ্গে যাওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে বলেছি। তিনি পূনঃরায় মেরামত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

স্বাআলো/ডিএম