প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ: আজাদকে হারালেন ফ্লোরা

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আটকে গেল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক দুর্নীতি। এর ফলে আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার কাছে হেরে গেলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমস্ত ‘দুর্নীতি অনিয়মের হোতা’ মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

ঘটনার শুরু গত জুনে। সে সময় করোনা আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষার আওতা বাড়াতে বিশেষ ব্যবস্থায় ১৮৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ভয়াবহ জালিয়াতি করা হয়। যেই আইইডিসিআর এর কর্মীরা (মাস্টার রোল) করোনার শুরু থেকেই নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ করছিলেন তাদের বাদ দিয়ে অনৈতিকভাবে অন্যদের নিয়োগ দেয়া হয়।

কেঁচো খুড়তে সাপ; বেরিয়ে আসার মতো এই নিয়োগ বাণিজ্যের নেপথ্য নায়ক হিসেবে উঠে আসে তিন জনের নাম। তারা হলেন ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. ইকবাল কবীর এবং এসটিডি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর ডা. সামিউল ইসলাম।

দুর্নীতির এই পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনতে সক্ষম হন আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এরপর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, আইইডিসিআর এ যারা শুরু থেকে অস্থায়ীভাবে কাজ করছেন তাদের আগে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিতে হবে, তারপর সুযোগ পাবেন অন্যরা। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব এতে অনুমোদন দেন। এরপর এই ফাইল পাঠানো হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে। এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই ফাইল আটকে ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সেখানে ফোন দিয়ে অনতিবিলম্বে ফাইল ছাড়ার জন্য বলা হয়। আজকে সেই ফাইলটি ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র। ফলে আবুল কালাম আজাদ গং সেব্রিনা ফ্লোরার দৃঢ়তার কাছে হেরে গেলেন।

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই আবুল কালাম আজাদ গং এর সঙ্গে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার একটা বিরোধের কথা শোনা যাচ্ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনার তথ্য গোপন করা, জেকেজি, রিজেন্টসহ বিভিন্ন ধাপ্পাবাজ প্রতিষ্ঠানের সাথে করোনা পরীক্ষার চুক্তি করাসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন সেব্রিনা ফ্লোরা। যার ফলে তিনি আবুল কালাম আজাদের চক্ষুশূলে পরিণত হন। এ কারণে একটা পর্যায়ে করোনার নিয়মিত বুলেটিনের দায়িত্ব থেকে সেব্রিনা ফ্লোরাকে সরিয়ে দেন আজাদ। এর বদলে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা্কে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু সেব্রিনা ফ্লোরা তার যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততার কারণে প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। যার প্রমাণ পাওয়া গেল মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে।

স্বাআলো/ডিএম