আশা করি জুলাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমবে: ডা. আব্দুল্লাহ

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন যে, বিজ্ঞানভিত্তিক যে সমস্ত প্রক্ষেপণগুলো দেখা যাচ্ছে তাতে আশা করি জুলাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমবে। এখন করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে যা ইতিবাচক। তবে করোনা কমবে কিনা তা নির্ভর করবে সাধারণ মানুষ কতটা স্বাস্থ্যবিধি মানছে এবং প্রশাসন করোনা মোকাবেলায় কতটা কাজ করছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে করোনা নিয়ে প্রতিদিনের আলাপচারিতায় অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন যে, জুনের তৃতীয় সপ্তাহের পর থেকে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং আক্রান্তের হার হঠাৎ করে বাড়ছে না। মৃত্যুহারও এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক, যা ইতিবাচক। তিনি বলেন যে, এখন আমরা যদি দায়িত্বশীল আচরণ করি এবং প্রশাসনের দায়িত্ব যদি প্রশাসন সঠিকভাবে পালন করে, জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে নজরদারি করে, সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে পারে, যত্রতত্র হাঁট-বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণ যদি সচেতন থাকে, জনগণ যদি স্বাস্থ্যবিধি মানে, অযথা ঘর থেকে বের না হয়, বের হলে সামাজিক দুরত্ব মেনে চলবে, মাস্ক পরবে, বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোবে ইত্যাদি স্বাস্থ্যবিধিগুলো যদি তাঁরা প্রতিপালন করে তাহলে আশা করি যে করোনা কমবে। সামনে আমাদের কিছু সমস্যাও রয়েছে, সেই সমস্যাগুলো আমরা কিভাবে মোকাবেলা করবো সেটাও দেখার বিষয়।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন যে, সামনে ঈদ। ঈদের সময় মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাবে এবং করোনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। গত ঈদেও আমরা দেখেছি যে, মানুষ সামাজিক দুরত্ব মানেনি, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাফেরা করেছে এবং এর মাধ্যমে সামাজিক সংক্রমণ বেড়েছে। তাই করোনা সংক্রমণ কমানোর ক্ষেত্রে এবারের ঈদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি বলেন যে, আমাদেরকে জীবন-জীবিকা একসাথে চালাতে হবে বলে হয়তো আমাদের কোরবানির হাট বসাতেই হতে পারে। তবে সেটা বসালেও যেন হাটের সংখ্যা কম হয়, সবাই যেন মাস্ক পরিধান করে এবং একটি সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে যেন সবাই কোরবানির হাটে যাওয়া-আসা করে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়াও পশু জবাই এবং মাংশ কাটার সময়েও স্বাস্থ্যবিধি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই সময়ে লকডাউন প্রয়োজন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন যে, দিনের পর দিন লকডাউন দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশের অর্থনীতি সচল রাখা অসম্ভব ব্যাপার। তখন হয়তো মানুষ করোনায় মারা যাবেনা, মারা যাবে অভাবে। এই অবস্থা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের কোন দেশেই সম্ভব। বিশ্বের অনেক দেশই এখন লকডাউন থেকে সরে আসছে এবং কোন কোন দেশে লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হচ্ছে। এই বাস্তবতায় আমাদের দীর্ঘদিন লকডাউন দেয়া সম্ভব না, যা গরীব মানুষদের জন্যে আরেকটি জুলুম হবে। এইজন্য সারাদেশে লকডাউনের বাস্তবতা নেই বলেই আমার মনে হয়।

এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন যে, যে এলাকাগুলোতে আক্রান্ত বেশি সে এলাকাগুলোতে হয়তো ছোটখাটো লকডাউন দিতে হবে। তবে লকডাউনের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি স্বাস্থ্যবিধি মানাটা। আমরা জানিনা যে, করোনা কতদিন থাকবে, কবে ভ্যাকসিন আসবে বা কবে করোনা চলে যাবে। এরকম বিজ্ঞানভিত্তিক কোন সমীক্ষা নেই, কোন প্রক্ষেপণ নেই। এই বাস্তবতায় করোনা পরিস্থিতি থেকে নিজেদেরকে সুরক্ষিত যদি রাখতে না পারি তাহলে আমরা মুক্ত হতে পারবো না। এইজন্য নিজেদের সুরক্ষিত রাখাই হলো সবথেকে ভাল উপায়। এইজন্যেই আমাদের স্বাস্থ্যবিধির উপরে নজর দিতে হবে যেন আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো জনগণ যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এবং ভিড় হতে পারে এমন কার্যক্রমগুলো বন্ধ করা যায় তাহলে আমরা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। একেবারে হয়তো করোনা চলে যাবে না তবে এটাকে হয়তো আমরা একটি সীমাবদ্ধতার মধ্যে আনতে সক্ষম হবো।

স্বাআলো/এসএ