চৌগাছায় পুনঃনির্মাণের ৪ দিনের মাথায় আবারো ভেসে গেলো এডিবির ড্রেন

আজিজুর রহমান, চৌগাছা (যশোর): যশোরের চৌগাছায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা সেই ড্রেন পুনঃনির্মাণের মাত্র ৪ দিনের মাথায় আবারো বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় নির্মিত এই ড্রেন নির্মাণের সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে ভেসে ভেসে যায়।

এনিয়ে ৫ জুলাই রবিবার বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে এবং পরদিন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ড্রেনটি পুনঃনির্মাণ করে দেন কাজটির সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। কিন্তু পুনঃনির্মাণের সময় ইটের গায়ে আগে থেকেই লেগে থাকা সিমেন্ট-বালু ভালভাবে পরিষ্কার না করায় ১০ জুলাই শুক্রবারের বৃষ্টিতে আবারো ড্রেনটি ধ্বসে ভেসে যায়।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির থেকে পানি নিস্কাশনের জন্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাধবপুর লক্ষণের বাড়ি হতে মাধবপুর বাওড় পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। জুন মাসের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এই
ড্রেন নির্মাণ করে।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন নির্মান কাজটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে বিল প্রদান করেন। কিন্তু অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় নির্মানের এক সপ্তাহের মধ্যে ৩০ জুন পার না হতেই বৃষ্টিতে ওই ড্রেনটি ধ্বসে পড়ে ইট ও সামগ্রী ভেসে যায়।

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এই ড্রেন নির্মাণ করায় ড্রেনের পার্শ্ববর্তী জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি বার বার অবহিত করলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার পর বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয়-জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর এটি ফের মেরামত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, মাধবপুরের ড্রেনটি নির্মাণের সময় খুবই নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালু ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণের পরেই বৃষ্টির পানিতে সিমেন্ট বালু ধুয়ে গিয়ে ড্রেনটি ধ্বসে যায়।

মাধবপুর সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি লক্ষণ চন্দ্র হালদার বলেন, আমরা বারবার কাজটির প্রাক্কলন দেখতে চেয়েছি। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন দেখান নি। তারা বলেছেন, অল্প টাকার কাজ। ওসব দেখা লাগবে না। এ নিয়ে দু’বার ড্রেনটি বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে ভেসে গেল। সামনে ভরা বর্ষা মৌসুমে কি হবে ভগবানই জানেন।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, এটি খুবই দুঃজনক ঘটনা। এডিবির বরাদ্দে এই ড্রেন নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ড্রেনটির সিমেন্ট বালু বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গিয়ে ধ্বসে পড়ে। এরপর পত্রপত্রিকায় নিউজ হওয়ার পর এটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। অথচ পুনঃনির্মাণের ৪ দিনের মাথায় ড্রেনটি আবারো বৃষ্টির পানিতেই ধ্বসে ভেসে গেছে।

প্রথমবার ধ্বসে পড়ার পর ড্রেন নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মিলন মিয়া বলেছিলেন, নির্মাণের প্রায় বিশ দিনের মধ্যেই ড্রেনটি বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে ভেসে গেছে।

তিনি বলেন, ড্রেন নির্মানের সময় পানি পড়ার জায়গায় একটি হাউজ তৈরি করলে এমন হতোনা।

এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন প্রথমবার ধ্বসে পড়ার পর ড্রেনটি নির্মাণ কাজের কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙ্গে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছিলেন, আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে বলেছি। তিনি পুনরায় মেরামত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে পুনরায় ধ্বসে ভেসে যাওয়ার পর জানতে চাইলে রবিবার তিনি মোবাইল ফোনে বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই, আজই বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাআলো/এসএ