সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেফতার দুই, আত্মসমর্পণ দুই, পলাতক এক

জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার ৫ আসামি মধ্যে আল আমিন (২২) ও ইউনুচ আলী (৩০) নামের দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত ১৩ জুলাই যশোর জেলার চৌগাছা থেকে আল আমিনকে এবং ১৪ জুলাই কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে ইউনুচ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

অপরদিকে, বুধবার আবু সাঈদ (২৫) ও আলী হোসেন (২৪) নামের দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। পলাতক অপর আসামি জুয়েলকে গ্রেফতারে পুলিশ জোরালো অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া গ্রেফতার হওয়া আসামি আল আমিন ও ইউনুচ আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতলেবুর রহমান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পূর্ববালিয়াডাঙ্গা গ্রামের লিবিয়া প্রবাসীর স্ত্রী তিন সন্তানের জননীকে গত ৩০ জুন উপরোক্ত ৫ আসামি সংবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ওই নারী নিজেই বাদি হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

মামলার পর পুলিশ গত ১৩ জুলাই যশোর জেলার চৌগাছায় পালিয়ে থাকা আল আমিনকে গ্রেফতার করে। আল আমিন কালীগঞ্জ উপজেলার বানুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। এর একদিন পর ১৪ জুলাই কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ইউনুচ আলীকে এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। উপরোক্ত দুই আসামি ঝিনাইদহ দ্বিতীয় আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম কুমার ঘোষের উপস্থিতিতে ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। অপর আসামি জুয়েলকে গ্রেফতারে পুলিশ জোরালো অভিযান চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, লিবিয়া প্রবাসীর স্ত্রী তার তিন মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। গত ৫/৬ মাস যাবৎ আবু সাঈদ হোসেন নামে একজন তাকে মোবাইলে ফোন দিতো। বিভিন্ন সময়ে ফোনে উত্ত্যক্ত করতো এবং ফোন দেয়ার বিষয়ে কারো কাছে বললে তাকে ও তার সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি দিতো। তিনি ভয়ে কাউকে কিছু বলেননি। এছাড়া সে ফোন দিয়ে নানা সময়ে কুপ্রস্তাব দিতো। এরপর ৩০ জুন মঙ্গলবার ঘটনার দিনগত রাতে সাঈদ ফোন দিয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘরের বাইরে আসতে বলে। দরজা না খুললে ভেঙে ঘরে ঢুকবে বলেও হুমকি দেয়। মানসম্মানের ভয়ে ভিকটিম গৃহবধু ঘরের দরজা খুলতেই ৩/৪ জন ওই গৃহবধুকে বাড়ির পিছনের একটি আমাবাগানে নিয়ে যায়। এরপর জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং মোবাইলে সেই দৃশ্য ধারণ করে। তিনি অজ্ঞান হয়ে মাঠের মধ্যে পড়ে থাকেন। ২/৩ ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে আছেন দেখতে পান। এরপর তিনি আস্তে আস্তে উঠে বাড়িতে চলে আসেন।

ঘটনার পরদিন সকালে কাউকে কোন কিছু জানানোর আগেই ওই গৃববধুকে মোবাইল ফোনে তারা হুমকি দিতে শুরু। কাউকে কিছু বললে তারা গৃহবধুর সন্তানের অনেক ক্ষতি করবে ও ধর্ষণ করা ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে।

এজন্য তিনি ভয়ে চুপ থাকেন। এরপর তারা ভিকটিম গৃহবধুর কাছে ফোন দিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। তা না হলে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। গৃহবধু টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের কাছে থাকা ওই ভিডিও কয়েকজন কে দেখালে পরে বিষয়টি লোক জানাজানি হয়। সর্বশেষ গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার গৃহবধু ৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় থানায় ৫ জনকে আসামি করে ওই গৃহবধু মামলা করেছেন। মামলার ৫ আসামির মধ্যে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। দুই জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে আর বাকি একজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে।

স্বাআলো/এসএ