জীবনের গল্প শোনাবেন সাহেদ

ডেস্ক রিপোর্ট : নভেল করোনাভাইরাস পরীক্ষার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবোদে তিনি এ মামলা সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সাহেদ তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেছেন, এ মামলা থেকে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর যদি আবার দেখা হয়, তাহলে তিনি তার জীবনের অনেক কাহিনী তাদের শোনাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদ করা এক তদন্ত কর্মকর্তাকে সাহেদ বলেছেন, জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর হয়তো আপনার সঙ্গে আবার দেখা হবে। তখন আপনি হয়তো আরো অনেক বড় কোনো পদে কর্মরত থাকবেন। তখন আপনাকে আমার জীবনের অনেক গল্প-কাহিনী শোনাবো।

এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা জানান, তিনি তার কর্মজীবনে অনেক অপরাধীকে দেখেছেন। অনেক প্রতারককে সামলেছেন। কিন্তু শাহেদের মতো এত ধূর্ত আর ধুরন্ধর প্রতারক আর কখনো দেখেননি। তার মাথায় সব সময় ‘ক্রিমিনাল বুদ্ধি’ গিজগিজ করে। সব বিষয় নিয়েই সাহেদ নিজের মতো করে যুক্তি দেখান।

তিনি আরো জানান, অনেক মানুষ শাহেদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি অনেকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করার পর এখন শত শত ভুক্তভোগী প্রতিকার চাইতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কাছে আসছেন। তারা র‌্যাবের কাছে আইনি সহায়তা চাইছেন।

সূত্র আরো জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদ স্বীকার করেছেন, তার সঙ্গে বিএনপির একজন নেতার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ঘনিষ্ঠতা রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গেও। তার রাজনৈতিক নেতা হওয়ার স্বপ্ন ছিলো।

জানা যায়, শাহেদের অবৈধভাবে আয় করা অর্থের অনুসন্ধান করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তিনি অবৈধভাবে বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য তার স্ত্রী, বিশ্বস্ত কর্মীসহ অনেকের ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে সাহেদকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে গত বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে তোলা হলে বিচারক অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

স্বাআলো/এসএ