কোরবানি : চুয়াডাঙ্গার গবাদি পশু অন্য জেলারও চাহিদা মেটাবে

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা:   এক বছরের ব্যবধানে চুয়াডাঙ্গায় গবাদি পশু মোটা তাজাকরণ খামারের সংখ্যা বেড়েছে  । সেক্ষেত্রে পশুর সরবরাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সংশ্লিষ্টরা  বলছেন , গত বছর লাভবান হওয়ায় এবার খামারের সংখ্যা বেড়েছে  প্রায় ৭ হাজার । সরবরাহ বাড়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে গরু ২০ হাজার  ও  ছাগল ৫০ থেকে ৬০ হাজর উদ্বৃত্ত থাকবে ।  এসব পশু দিয়ে ঢাকা- চট্রগ্রামের পাশাপাশি  অন্যান্য জেলার চাহিদাও মেটানো যাবে । এখানকার মাটির গুণে গরুর মাংস সুস্বাধূ ও ব্ল্যাক বেঙ্গল দেশ সেরা ।

জেলা প্রাণি স¤পদের তথ্য মতে  জানা যায় , চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে প্রায়  ১ লাখ ৮৪ হাজার । এর মধ্যে গরু  ও মহিষ মিলে ৩৮ হাজার ৮৪৯টি, ছাগল ও ভেড়া মিলে মিলে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪ টি । এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায়  কোরবানিযোগ্য পশু গরু ও মহিষ মিলে ৫ হাজার ৫৫৫টি  ও ছাগল ও ভেড়া মিলে ২৪  হাজার৫৬৭টি,আলমডাঙ্গা উপজেলায় গরু মহিষ মিলে ১৮হাজার ১৫০টি,ছাগল ও ভেড়া মিলে ৪০ হাজার ২১৮টি,দামুড়হুদা উপজেলায় গরু ও মহিষ মিলে ৫ হাজার ৬১৫টি,ছাগল ও ভেড়া মিলে ৩৪ হাজার ৩৪৫টি ও জীবননগর উপজেলায় গরু ও মহিষ মিলে ৬ হাজার ৬০৫টি ও ছাগল ও ভেড়া মিলে৪৫ হাজার ৯১৪টি ।

 আলমডাঙ্গা উপজেলার মাজহাদ গ্রামের খামারী হাজ্জাজ বিন তাহাজ বলেন, নিজের খামারে এবার ৫০ টি গরু পালন করেছিলেন । যার বাজার মূল্য ৩ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা।জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে অন লাইনে  গরুর বর্ণনা দিয়ে ছবি আপ করছি কোন সাড়া পাচ্ছিনা ।

 চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মদনা গ্রামের খামারী  আব্দুস কুদ্দুস  বলেন,আমার  খামারে ৫ টি গরু আছে । একটি গরু এখনও বিক্রি করতে পারিনি । কুরবানির আগে গরু বিক্রি করতে পারবো কিনা জানিনে । এমন যদি আরো কয়েক মাস চলে তবে খামারীদের পথে বসতে হবে । অন লাইনে গরুর সাইজ, রং ও ওজন দিচ্ছি গরু হিসেবে  খরিদ্দার মূল্য খুবই কম বলছে। তাই গরু বিক্রি করতে পারছিনে ।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ এইচএম শামিমুজ্জামান জানান, প্রতি বছর কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ব্যাপকভাবে পশু পালন করা হয়ে থাকে । যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা ক্রয় করে নিয়ে যায় । করোনার কারণে  চলতি মৌসুমে খামারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে । তবে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অন লাইনের মাধ্যমে পশু বিক্রয়ের সহযোগিতা করে  ক্ষতিপূরণ কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।  তবে চোখে না দেখে এ পদ্ধতিতে পশু বিক্রি সঠিকভাবে হয়না ।

চুয়াডাঙ্গা জেলা  প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা জানান,  চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৪ হাজার পশু প্রস্তুত আছে ।  এ জেলায় বাইরে থেকে  কোন পশু আসার প্রয়োজন  হয় না । স্বাআলো/কে