চার করণে ডিজি আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগ

ডেস্ক রিপোর্ট: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। তারপরও তিনি পদত্যাগ করেননি। কিন্তু হঠাৎ কী এমন ঘটলো যে তিনি পদত্যাগ করতে গেলেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যখন তার অফিসে রেইড করলো এবং তারা যখন ডিজির অনিয়ম এবং দুর্নীতির প্রমাণ পেল, কাগজপত্রে যখন দেখা গেল ভয়াবহ অনিয়ম, তখনই পদত্যাগ করলেন অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, আবুল কালাম আজাদের এই পদত্যাগের কারণ হলো মোটামুটিভাবে চারটি। এগুলো হলো-

প্রথমত; আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জেকেজি কেলেঙ্কারি, রিজেন্ট কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। তাই পদত্যাগের আগেই অপসারিত হলে তাকে চরম অপমানের মুখে পড়তে হতো। এ অবস্থায় পদত্যাগ করাটাকেই তিনি বেশি ভালো সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন এবং সে অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করেন।

দ্বিতীয়ত; আবুল কালাম আজাদ আগে যেমন স্বেচ্ছাচারিভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালনা করতেন, তিনি যেভাবে চান সেভাবে সবকিছু হতো। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অনেক বিষয়ের তদারকি করছে। আবুল কালাম আজাদ নিজের ইচ্ছানুযায়ী আগের মতো আর সবকিছু করতে পারছেন না। তার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়েছিল। তিনি যেভাবে বিভিন্ন সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন, সেগুলো আর বাস্তবায়ন করা যাচ্ছিল না।

তৃতীয়ত; স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে কিছুদিন আগেই নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আবদুল মান্নান। তিনি শুরু থেকেই তার কাজের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি সব বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন। ফলে আগে আবুল কালাম আজাদ যেভাবে নিজের খেয়াল খুশিমতো কাজ করতে পারছিলেন, এখন আর তেমনটা করা যাচ্ছিল না। এটা তার পদত্যাগের একটা কারণ।

চতুর্থত; আবুল কালাম আজাদের নিজস্ব লোকগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। অনিয়মের সঙ্গে যুক্তদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছিল, যেমন- ডা. ইকবাল কবিরকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আরও কয়েকজনকে সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিজের লোকগুলোকে যখন সরিয়ে দেয়া হচ্ছিল, তখন তিনি কিছুই করতে পারছিলেন না। এজন্য তিনি শেষমেষ পদত্যাগ করেন।

স্বাআলেঅ/ডিএম