সাকিব এখন শান্ত ও স্থির, অবদান দুই মেয়ের

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বখ্যাত অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। পেয়েছিলেন ২০০৯ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব। ততদিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলেছিলেন তিনি, সে বছরই হয়েছিলেন আইসিসির র‍্যাংকিংয়ের সেরা অলরাউন্ডার।

কিন্তু খেলার বাইরে তখন বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বারবার বিতর্কিত হয়েছেন সাকিব। কখনও বোর্ড প্রধানের সঙ্গে বিবাদ, কখনও ঝামেলা হয়েছে নির্বাচকদের সঙ্গে, আবার কখনও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের ওপর। সবমিলিয়ে অধিনায়ক সাকিবের একটি নেতিবাচক রূপ তৈরি হয়ে যায় তখন।

প্রায় এক যুগ আগের সেই সময়ের কথা মনে পড়লে কোনো আফসোস বা আক্ষেপে পুড়েন না সাকিব। বরং তিনি মনে করেন, তখনকার সেসব অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি পরবর্তী ক্যারিয়ারে আরও গোছালো এবং পরিণত হতে পেরেছেন। তবে তখনকার বিতর্কিত সব ঘটনাগুলোর পেছনে বয়সের একটা দায়ও দেখেন তিনি।

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছেন, ‘আমি মনে করি বিতর্কের বিষয়টা আসলে দুই দিক থেকেই। কখনও বিতর্ক আমার পিছু নিয়েছে, আবার কখনও আমিই বিতর্ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমি ক্যারিয়ারের একদম শুরুতেই দায়িত্ব পেয়েছিলাম। ফলে আমার ভুল হওয়াটাই ছিল।’

‘যখন অধিনায়ক হই, তখন আমার বয়স মাত্র ২১ বছর। আমি তখন অনেক ভুল করেছি এবং মানুষ আমার ব্যাপারে নানান কিছু ভাবতে শুরু করেছিল। এখন আমার মনে হয় যে, কিছু ক্ষেত্রে আমার ভুল ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে আমাকে ভুল বোঝা হয়েছিল। তবে আমি এসবের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। কেননা উপমহাদেশে এসব খুবই স্বাভাবিক বিষয়।’

তবে এখন আর আগের মতো অপরিণত নেই সাকিব। ক্যারিয়ারের এতটা সময় পেরিয়ে বুঝতে পেরেছেন জীবন এবং ক্রিকেটের নানান দিক। বিশেষ করে তার জীবনবোধ বদলে দেয়ার পেছনে দুই মেয়ে অব্রি ও ইররামের অনেক বড় ভূমিকা- এমনটাই মনে করেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এ অলরাউন্ডার।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এখন আমি যত পারি কম ভুল করার চেষ্টা করি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি বিয়ে করেছি, দুইটা বাচ্চা হয়েছে। আমি এখন জীবন এবং খেলা আরও ভালো বুঝতে পারি। বিশ বছর বয়সে আমি যেমন ছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ও স্থির এখন। আমি অনেকটাই বদলে গেছি। মানুষ এখন আর আমাকে বেশি ভুল করতে দেখবে না। দুই মেয়ে আমার জীবনটা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

স্বাআলো/জি