ডা. মনীষার করোনা চিকিৎসাসহ মানবিক কার্যক্রম বন্ধের চক্রান্ত!

বরিশাল ব্যুরো: বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা শাখার সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন ফকির বাড়ী রোডের মাতৃছায়া শিশুকাননের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সুজিত কুমার দেবনাথ। বিদ্যালয় প্রঙ্গণ থেকে ডা. মনীষা চক্রবর্তীর করোনার অস্থায়ী ক্যাম্প সরিয়ে নিতে আজ রবিবার বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগটি করেন তিনি।

অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রীক দল-বাসদ বরিশাল জেলা শাখা। বিকেলে তারা ফকির বাড়ি রোডস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এসময়ে জেলা শাখার আহবায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন বলেন, এটি মূলত একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। আমাদের জনসেবায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল সংঘবদ্ধভাবে এই কাজ করছেন। তারা চাচ্ছেন, আমাদের এখান থেকে নামিয়ে দিতে। তাতে করোনায় মানবসেবা বিঘ্ন হবে। রাজনৈতিকভাবে সেই সুবিধাটা নিতে পারবেন।

রুমন দাবি করেন, চলতি বছরের জুন মাসে সুজিত কুমার দেবনাথ মাতৃছায়া শিশুকানন আপতত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের ৪টি কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেন। বিনিময়ে ভাড়া বাবদ পাঁচ লাখ টাকা এ্যাডভান্স এবং ৩৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া দেয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা তার কাছ থেকে রুম ভাড়া নিতে অপারগতা প্রকাশ করি। কারণ ওই ভবনের মূল মালিক সুজিত দেবনাথ নন। মূল মালিক হাসান ইমাম চৌধুরীর মেয়ের সাথে আমাদের আলাপ হয়েছে। তিনি সুজিত দেবনাথের কাছে স্কুল ভাড়া দিয়েছেন, কিন্তু স্কুলের কক্ষ কারও কাছে ভাড়া দেয়ার অনুমতি দেননি।

ইমরান হাবিব রুমন ভবন মালিক হাসান ইমাম চৌধুরীর স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান, সুজিত দেবনাথের সাথে হাসান ইমামের যে চুক্তি হয়েছিল তা ২০১৭ সালে মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তারপর নতুন কােন চুক্তি হয়নি। ফলে ওই ভবনের ভাড়া দেয়ার এখতিয়ার ভাড়াটিয়া সুজিত দেবনাথের নেই।

তবে মাতৃছায়া শিশুকাননের পরিচালক সুজিত কুমার দেবনাথ অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বাসদের জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী শিশুদের বিজ্ঞান শেখানোর জন্য ‘বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের জন্য মৌখিকভাবে ভাড়া নেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৮ মার্চ ডা. মনীষা চক্রবর্তী কোভিড-১৯ উপলক্ষে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদ্যালয়টির ৪টি কক্ষ ও তার সামনের প্রাঙ্গন ব্যবহার করার অনুমতি চাইলে মানবিক দিক বিবেচনা করে ব্যবহারের অনুমিতি দেন। এসময় তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানবতার বাজার নামে একটি বাজার খোলেন এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম করেন।

ঈদ-উল-ফিতরের পর ওই কার্যক্রম না চলায় বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বললে মনীষা চক্রবর্তী ত্যাগ করেননি। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসেন এবং করোনা রোগীদের অস্থায়ী ক্যাম্প কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ কার্যক্রম চালাতে তিনি বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ব্যবহারের কোন অনুমতি দেননি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, করোনা রোগী বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স, ব্যবহৃত পিপিই, মাস্ক, পোষাক, অক্সিজেন সিলিন্ডার ইত্যাদি স্কুলের যেখানে সেখানে ফেলে রাখা এবং করোনায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ধোয়াসহ স্কুলের শিক্ষার্থীদের টয়লেট ব্যবহার করে স্বেচ্ছাসেবীরা। মনীষা চক্রবর্তীকে এইসব কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য বার বার অনুরোধ করা হলেও তিনি শোনেননি।

সুজিত দেবনাথ দাবি করেন, করোনাকালে জনসেবার নামে মনীষা চক্রবর্তীর এই কর্মকান্ডে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করবে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তিনি মনীষা চক্রবর্তীর এই কর্মকান্ড থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করেন।

স্বাআলো/ডিএম