‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্প: নির্মাণ না করেই ঘর হস্তান্তর!

এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা (যশোর): যশোরের ঝিকরগাছায় ‘জমি আছে ঘর নাই’ তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ ও দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ঘর নির্মাণ না করেই হস্তান্তর অনুষ্ঠান করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নতুন ঘরের আশায় বসবাসের একমাত্র সম্বল ‘খুপড়ি’ ভেঙ্গে এখন নিরুপায় মদিনা মিয়া। উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ছোটকুলি গ্রামের উছমান গণির ছেলে মদিনা মিয়া। তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ উপজেলায় ৩৯৪ টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মধ্যে মাগুরা উইনিয়নে রয়েছে ৪২ টি ঘর। যার একটি ঘর বরাদ্ধ পান মদিনা মিয়া। টিনের তৈরি এ ঘরের ব্যয় মূল্য ধরা হয়েছিল এক লক্ষ টাকা।

গত ১৬ জুলাই মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা প্রশাসন ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠান করেছে। অথচ, প্রকল্পের এ ঘর নির্মাণ কাজ শুরুই করা হয়নি।

সরেজমিনে মদিনা মিয়ার বাড়ি দেখা গেছে, ঘর তৈরি জন্য কিছু ইট, খোয়া, বালু, কাঠ, খুটি, সিমেন্ট ও রিং ফেলে রাখা হয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে এসব নষ্ট হতে চলেছে।

মদিনা মিয়ার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন জানান, প্রায় দুই মাস আগে সরঞ্জাম এনে ঘর তৈরির জন্য জায়গা পরিষ্কার করতে বলেন। তখন আমাদের থাকার একমাত্র খুপড়িটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। এরপর থেকে দুই ছেলে নিয়ে অন্যের ঘরে থাকছি।

মর্জিনা খাতুন আরো বলেন, যে সিমেন্ট রেখে গিয়েছিল তা নষ্ট হয়ে শক্ত হয়েগেছে।

মদিনা মিয়া জানান, যে টলি ওয়ালা সরজ্ঞাম রেখে গিয়েছিল তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুই জানেন বলে জানিয়েছেন। পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ যাঁর কাছে গেছেন তাঁরা এ বিষয় জানেন না বলে তাঁকে জানিয়েছেন।

এবিষয় মাগুরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘর নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কে তাঁর কাছে কোন তথ্য নেই। এটা উপজেলা প্রশাসনের বিষয়।

এ প্রকল্পের সদস্য উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা বিএম কামরুজ্জামান জানান, শুনেছি আমি এ প্রকল্পের উপজেলা কমিটির সদস্য। তবে কোনদিন এ সম্পর্কে কোন তথ্য জানানো বা সভা করা হয়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ত্রাণ) শুভাগত বিশ্বাস জানান, এ মাসের মধ্যেই সকল ঘর নির্মাণ কজ শেষ করা হবে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ না হওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন ‘আমি তো ৬ মাস এসেছি’।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমান জানান, এ প্রকল্প সম্পর্কে সাবেক ইউএনও আমাকে কিছু অবহিত করে যাননি। আমি তো সপ্তাহ খানেক এসেছি।

স্বাআলো/এসএ