দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন স্পটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

বরিশাল ব্যুরো : করোনার আঘাতে পর্যটন মৌসূমে অনেকটা জনশূন্য ছিল বরিশালের পর্যটন স্পটগুলো। পর্যটন এলাকার হোটেল, মোটেল, ডাকবাংলো ও খাবার দোকানগুলোর অধিকাংশই বন্ধ। সরকারের নির্দেশনায় করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারনণর মধ্যে করোনা সম্পর্কে সচেতনতায় মহামারি আকার ধারণ না করলেও একেবারে আক্রান্তের সংখ্যাও কম না।
ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে বরিশালের পর্যটন স্পটগুলো। আটঘর-কুরিয়ানার পেয়ার বাগান, নৌকার হাট এবং কুয়াকাটায় পর্যটন এলাকাগুলোতে এরই মধ্যে মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। কিন্তু এসব পর্যটন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মাঝে নেই কোন করোনা সচেতনতা। ফলে করোনা সংক্রামণের ঝুঁকিতে থাকছে তারা। পাশাপাশি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে পর্যটকদের। স্বাস্থ্য অধিদফতর বরিশাল বিভাগী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসে বিভাগে আজ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০৬ জনের। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০২।
এদিকে ১৭ জুলাই পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার সম্ভাবনাময়ী পর্যটন স্পট আটঘর-কুরিয়ানায় সরেজমিনে দেখা গেছে, করোনায় কোন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। মানুষগুলো কারণ ছাড়াই ঘরের বাইরে বের হয়ে বিভিন্ন স্থানে জটলা পাকিয়ে বসে থাকছেন। হাট-বাজারে গাদাগাদি করে কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ। এসব হাট-বাজারে অধিকাংশকে মাস্কও ব্যবহার করছেন না। রিকশা বা ভ্যানগাড়িতেও অপরিচিত একাধিক মানুষ চলাচল করছেন। এছাড়া পেয়ার বিক্রেতা থেকে শুরু করে, পাইকার পরিবহন ড্রাইভার ও ট্রলার চালকসহ কারোই স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কোন আগ্রহ নেই।
করোনা ভাইরাস নিয়ে কুরিয়ানা এলাকার পেয়ারা ব্যবসায়ি আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, করোনা শহরের মানুষের রোগ। আমরা গ্রামে থাকি। আমাদের এসব রোগ হবে না। আর মাস্ক পড়লে শ্বাস নিতে কষ্ট লাগে। তাই মাস্ক পরিনে।
কিছুটা দূরেই দেখা গেল বরকত আলীর চায়ের দোকানে লোকজনের উপচে পড়া ভিড়। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা চায়ের কাপটাও ঠিক ভাবে গরম পানি দিয়ে পরিষ্কর করা হচ্ছে না। বরকত আলী বলেন, সারাদিন টিভিতে করোনা নিয়ে সচেতন হওয়ার কথা দেখে এখানকার লোকজন। এখন যদি তারা নিজেরা সচেতন না হয়। আমি কি করমু?

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মোশারেফ হোসেন বলেন, আমরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি করোনা প্রতিরোধের। তবুও অনেককেই করোনার বিষয়ে উদাসিন।

তিনি আরও বলেন, ট্রলারের মাধ্যমে পেয়ারা বাগানে ভ্রমণের অনুমতি আমরা আপতত  দিচ্ছি না। এছাড়া করোনা প্রতিরোধে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে সাগরকন্যা কুয়াকাটতেও স্বাস্থ্য বিধি মানার বালাই নেই। মাস্ক ছাড়াই অনেকে ঘুরছে সমুদ্র সৈকতে। স্থানীয় জনগন ও দোকানদার মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন। তবে হোটেল, মোটেলগুলো করোনা কালীন সময়ে অনেকটাই ফাকা। অনেক হোটেল-মোটেল ছিল বন্ধ। তবে যে কয়টি খোলা আছে তারা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছেন। এমটাই গত ২১ জুলাই কুয়াকাটা গিয়ে দেখা যায়।

করোনার মাঝে তেমন কোন ক্রেতা নেই। খাবার হোটেলগুলোর মালিকরা দেখছে না লাভের মুখ। আর আমরাও ভাল নাই । কারন পর্যটক নাই তাই বাড়তি ইনকামের সুযোগও নাই। কথাগুলো বলছিল কুয়াকাটার একটি মায়ের দোয়া খাবার হোটেলের মালিক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।

কিছুদূর যেতেই জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে আরিফুর রহমান নামের একটি ছেলে। হলুদ গেঞ্জি গলায় ক্যামেরা ঝুলানো। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কেন বের হলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছবি তুলে আমাদের পেট চলে। করোনায় তেমন কোন কাস্টমার নেই। সিবিচ ফাঁকা। যেহেতু পর্যটক নেই, করোনায় তো আমরা এই এলাকার নিজেরাই। ভয়ের কোন কারন নেই।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক  মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমরা করোনা সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছি। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। এ মুহুর্তে কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম। যদি পর্যটক বাড়ে সে অনুসারে আমরা পরবর্তী নির্দেশনা অনুসারে ব্যবস্থা নিব।

বরিশাল বিভাগের পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, করোনায় বর্তমানে সংক্রমনের হার দিন দিন বাড়ছে। হয়তো পরীক্ষা কম হয় বলে আমাদের মনে হতে পারে করোনার সংক্রামন কম। আসলে কিন্তু তা নয়। পরীক্ষা বেশি হলে দেখবেন করোনা অক্রান্তের সংখ্যা বেশি। আমরাসহ সকল সরকারি কর্মকর্তারা করোনা বিষয়ে জনগনকে সচেতন করে যাচ্ছি।
এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকাও কম নয়। কিন্তু এখনও জনগনের মাঝে করোনা নিয়ে অসেচতনা আসলেই দুঃখজনক।

স্বাআলো/কে