‘শতকোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে বদলে যাবে চুয়াডাঙ্গা শহর’

চুয়াডাঙ্গা: ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র। তিনি পৌরসভাটিকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা মাথায় রেখে নির্বাচন করেন। এটি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও। মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হবার পর এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। অনলাইন নিউজ পোর্টাল স্বাধীন আলোর সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি সেসব বিবরণ তুলে ধরেন।

স্বাধীন আলো: জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার লক্ষ্য কী?

ওবায়দুর রহমান চৌধুরী: দেখুন, আমি ছাত্রাবস্থায় থেকেই রাজনীতি করি। ছিলাম চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এখন জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে গর্বরোধ করি। তার সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন দেশকে সোনার বাংলায় রুপান্তরের কার্যক্রম চলছে। সেই কর্মযোগ্যে একজন অংশীদার হতেই জনপ্রতিনিধি হয়েছি।

স্বাধীন আলো: নির্বাচিত হওয়ার পর আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী এ পর্যন্ত কতটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে?

ওবায়দুর রহমান চৌধুরী: মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর পৌরবাসির স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে ৩৭ জেলা অবকাঠামো প্রকল্প, ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রকল্প তিনটি চলমান । ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ঠিকাদাররা শুরু করেছেন ।

আমরা আরো একটি কাজ করেছি। সেটি হলো জলবায়ু প্রকল্প। এটি এক কোটি টাকার প্রকল্প । সোলার বাল্ব লাগানোর ফলে শহর এখন আলোকিত। সব মিলিয়ে ১০০ কেটি টাকার কাছাকাছি প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের কিছু চলমান এবং কিছু শেষ হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি দেশটাকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এগিয়ে যাচ্ছে। চলমান কাজ শেষ হলে চুয়াডাঙ্গার শহরের সৌন্দর্য শুধু বৃদ্ধি পাবে না, রীতিমতো বদলে যাবে।

স্বাধীন আলো: ২০১৬ -২০২০ সালে বাজেটের কত শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে?

ওবায়দুর রহমান চৌধুরী: ৯৫ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

স্বাধীন আলো: জনবান্ধব শহর গঠনে আপনার ভাবনা কী?

ওবায়দুর রহমান চৌধুরী: জনবান্ধব শহর গঠনে পৌর পরিষদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যা যা করণীয় চুয়াডাঙ্গা শহর গঠনে তাই করে যাচ্ছে । চুয়াডাঙ্গা এখন একটি পরিচ্ছন্ন শহর। এক সময় এ শহরে জলবদ্ধতা ছিল, সেটা এখন আর নেই । সোলার বাল্ব লাগানোর কারণে শহর আজ আলোকিত । পানি সরবরাহের কাজ শেষ হয়েছে, ড্রেন নির্মাণের কাজটি চলমান। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম এখন দৃশ্যমান ।

স্বাধীন আলো: করোনাকালীন আপনার ভূমিকা কেমন?

ওবায়দুর রহমান চৌধুরী: করোনা শুরু হলে সারা বিশ্বের মানুষ যখন অস্থির হয়ে পড়ে। আমাদের দেশে মার্চে করোনা শনাক্ত হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মহামারী প্রতিরোধে দৃঢ় অবস্থান নেন। আমাদের প্রতিও সরকারের অনেক নির্দেশনা ছিল । সেটা আমরা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি । প্রথমত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমরা গোটা শহরে জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে করেছি । আমরা পৌর ভবনের সামনে ট্যানেল বসিয়েছি। আমাদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে হলে এই ট্যানেলের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। আমরা মনে করি, এই ট্যানেলের মধ্য দিয়ে মানুষ প্রবেশ করলে কিছুটা হলেও জীবাণুমুক্ত হবে।

পৌরসভাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা প্রথম থেকে গুরুত্ব দিয়ে আসছি। করোনার কারণে ৯ হাজার কর্মহীন মানুষের বাড়িতে সরকারি বরাদ্দ চালসহ অন্য জিনিস পৌছে দিয়েছি। করোনার কারণে পৌরবাসিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে ঢাকা থেকে প্রায় ১০ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার এনে পৌরবাসির মধ্যে বিতরণ করেছি। মসজিদে মুসুল্লিদের সুরক্ষা দিতে ১০৭ টি মসজিদে ৫ লিটার করে হ্যান্ড ওয়াশ পৌছে দিয়েছি।

পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ৫১টি ষ্পট আছে। ওই সব ষ্পটে কোরবানির পশু জবাই করার জন্য পৌরবাসিকে আহবান জানিয়েছি। আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা কোরবানির শুরু থেকে রাত ৮টার মধ্যে সমস্ত রক্ত ও ময়লা অপসারণ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিয়ে আসে। করোনার কারণে ভিন্নতা আছে এ বছর। করোনা ও ডেঙ্গু এক সাথে হলে আমাদের বিপদ আরো বেশি হবে। এই জন্য কয়েকদিন আগে ১৫ দিনের একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সে কর্মসূচি চলমান আছে। সে কারণে শহরে মশার দাপটটা কম। আমরা সচেতন হলে এই সব মহামারি থেকে আমরা রক্ষা পাব ইনশাআল্লাহ।

স্বাধীন আলো: আগামী দিনে ভোটারদেব প্রতি আপনার আহবান কী?

ওবায়দুর রহমান চৌধুরী: আমরা পৌরসভার দায়িত্ব নিয়ে সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ভালো আচরণের মধ্য দিয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করেছি । আমাদের কাজে যদি জনগণ উপকৃত হয়, পৌর সুযোগ-সুবিধা যদি নিশ্চিত করে থাকি তাহলে আমি আশা করি ও বিশ্বাস রাখি, আগামীতেও আবার তারা তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে দায়িত্ব দেবেন।

স্বাধীন আলো: আপনার শত ব্যস্ততা ও মূল্যবান সময়ের কিছুটা স্বাধীন আলোর জন্য ব্যয় করায় আপনাকে ধন্যবাদ।

ওবায়দুর রহমান চৌধুরী: আমাদের জনবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা দেশবাসির সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে সাক্ষাৎকারটি নেয়ায় আপনাকেও ধন্যবাদ।

স্বাআলো/ডিএম