তারেক মাসুদ মিশুক মুনির হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা: তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির হত্যা মামলার কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত বাসচালক জামির হোসেন কারাগারে মারা গেছেন। শনিবার ঈদের দিন সকালে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে সেখানে তিনি মারা যান ।

ডিলাক্স পরিবহনের মালিক মুজিবুল হক খোকন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জমির হোসেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের দৌলাতদিয়াড় স্কুলপাড়ার জমির হোসেন ছোটবেলা থেকেই পরিবহনের সাথে যুক্ত। তিনি দক্ষ চালক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

২০১১ সালের ১৩ আগষ্ট ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। গাবতলি-পাটুরিয়া সড়কের মানিকগঞ্জ ঘিওরে মাইক্রোবাসের সাথে ধাক্কা লাগে। ঘটনাস্থলে তারেক মাসুদ ও মিশুক মনিরসহ ৫ জন মারা যান। ওই মাইক্রোবাসে ১০ জন আরোহীর মধ্যে তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদসহ অন্য আরোহীরা বেঁচে যান।

এ দুই গুণী সৃজনশীল মানুষের মৃত্যুতে মিডিয়া জগতে গভীর শোক নেমে আসে। ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় মেহেরপুর গাংনীর চৌগাছা থেকে গ্রেফতার করা হয় ড্রাইভার জামির হোসেনকে। নেয়া হয় ঢাকায়। পরে তাকে মানিকগঞ্জে রুজুকৃত মামলায় সোপর্দ করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করে পুলিশ। বিচারে চালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ পরিবহন সংস্থার মোটা অংকের অর্থ জরিমনা করা হয়। জামির হোসেন কারাগারেই ছিলেন। ঈদের দিন মারা গেলেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের স্বত্বাধিকারী মুজিবুল হক খোকন বলেন, জামির হোসেন দীর্ঘদিন আমাদের সাথে ছিলেন। ঘটনার পর তার জামিনে মুক্ত করার জন্য হৃদরোগ বিষয়ক যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে আদালতে ছোটাছুটিও করেছি। কিন্তু জামিন পাননি। তার মৃতদেহ চুয়াডাঙ্গায় আনার চেষ্টা চলছে।

স্বাআলো/ডিএম