পানির দামে পশুর চামড়া, ফেলে দিচ্ছেন অনেকে

চুয়াডাঙ্গা: ছাগলের চামড়া ২০ টাকা আর গরুর চামড়া ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। তারপর চামড়া কেনার জন্য ক্রেতার দেখা মিলছে না। নাম মাত্র দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা।

চামড়ার দাম কম থাকায় এতিমখানা ও মাদ্রসা কর্তৃপক্ষ নিজেরাই লবন দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করছেন বেশি দামে বিক্রির আশায়। চামড়ার আড়তগুলোতে চামড়া কম আসছে।

জানা যায়, কোরবানির ঈদে জেলায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ মানুষ কম কোরবানি দিয়েছেন এবার। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার দাম কম। একটি ছাগলের চামড়া আকার ভেদে ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর গরুর চামড়া একটি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত দরে।

চুয়াডাঙ্গা গোরস্থান পাড়ার বিশিষ্ট ব্যববায়ী ফিরোজ মিয়া বলেন, আমাদের একটি গরুসহ তিনটি কেরবানি হয়েছে। যে চামড়া কয়েক বছর আগেও ছাগলের চামড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা ও গরু ২০০০ থেকে ৩০০০ টাক পর্যন্ত বিক্রি করেছি। সেই চামড়ার ক্রেতা না থাকায় ফেলে দিচ্ছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় চামড়াগুলো মাদ্রাসায় দিয়ে দিলাম।

চুয়াডাঙ্গা সারমিনা আক্তার এতিমখানার মুহতামিম আনিসুর রহমান বলেন, শনিবার ও রবিবার এই দুদিনে পর্যন্ত ৫৫টি গরুর চামড়া ও ২৫০টি ছাগলের চামড়া যোগাড় করেছি। ছাগলের চামড়া গড়ে ৩০ টাকা ও গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি।

চুযয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সৌকত আলী বলেন, ২টা ছাগলের চামড়া ৬০ টাকায় বিক্রি করলাম। একটি ২০ টাকা অপরটি ৪০ টাকায়। আমার গাড়ির ভাড়াও হবে না। আগে জানলে ফেলে দিতাম।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আমরিুল জানান, ২টা ছাগলের চামড়া ৮০ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।

আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি গ্রামের নুর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু বলেন, আমাদের গরুতে ৬ মন মাংশ হয়েছে। এতো বড় চামড়া ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই বছর গত বছরের চেয়েও খারপ অবস্থা। কয়েক বছর আগেও চামড়ার দাম ভাল ছিল। চামড়ার দাম না থাকায় সবাই চামড়া মাটিতে পুতে ফেলছে।

জীবননগর উপজেলার মাদ্রাসার শিক্ষক জিয়াউল হক বলেন, লিল্লাহ বোডিং ও এতিমখানাগুলোতে সরকারি যে অনুদান পাওয়া যায় সেটা যৎসামান্য। কোরবানির চামড়ার টাকায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো চলতো। চামড়ার দাম না থাকায় সেটাও বন্ধ হয়ে গেলো।

চামড়া বিক্রেতারা বলছেন, আড়তে নিয়ে চামড়া বিক্রি করলে গাড়ি ভাড়ার টাকা উঠছে না। তাই চামড়া বিক্রির জন্য না যেয়ে ফেলে দিলেই ভাল হত।

দামুড়হুদার ফড়িয়া রতন বলেন, বড় গরুর চামড়া ৩০০ তেকে ৫০০ টাকায় কিনেছি ও ছোট গরুর চামড়া ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনেছি। বিক্রি করে টাকা পাব কিনা জানিনা। গত বছরের টাকা এখনও পাইনি। এ বছর করোনার কারণে খুবই খারাপ অবস্থা ।

চুয়াডাঙ্গা ফার্মপাড়া এতিমখানা ও মাদ্রাসার মুহতামিমসহ অনেকেই জানান, চামড়ার দাম ভাল না পাওয়ায় নিজেরাই লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন বেশি দামে বিক্রির আশায়। কিন্তু গত বছরের টাকা এখনও পাননি। চামড়া নিয়ে সবাই কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার অবস্থিত জেলার সর্ববৃহৎ আড়ৎদার সামসুল আলম টুটুল বলেন, গত বছর যে চামড়া বিক্রি করেছি ট্যানারির মালিকদের কাছে সেই টাকা এখনও পড়ে আছে। এ বছর ধার দেনা করে চামড়া কিনছি। এই টাকা পাব কিনা জানিনা। ছাগলের চামড়া ১০ টাকা ফুট ও গরুর চামড়া ২০ টাকা ফুট কিনছি। থাউকো ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ৫০ টাকা ও গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় কিনেছি। এই কাজে লেবারের দাম বেশি । লেবারের টাকা দিয়ে আমাদের কিছুই থাকে না। একটা লেবারের দাম এক হাজার ৫০০ টাকিা। চামড়ার দাম এমনই থাকলে চামড়া বিক্রি করতে আর কেউ আসবে না।

তিনি আরো জানান, সরকাররভাবে চামড়ার দিকে সুদৃষ্টি না দিলে এই শিল্প অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে ।

স্বাআলো/ডিএম