পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি, তবুও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি মানুষের। দীর্ঘদিন বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা ঘর-বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। ফলে দুর্বিসহ দিন অতিবাহিত করছেন বন্যা দুর্গত পরিবারগুলো।

উঁচু স্থানে ও বাঁধে আশ্রয় নেয়া অনেক পরিবারের বাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় তারা এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি। বন্যা কবলিত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগ। চরাঞ্চলের চারন ভুমি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।

রৌমারী উপজেলার যাদুর চর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের আনুমানিক তিন থেকে চার হাজার পরিবার এখনো উঁচু স্থান ও বাঁধসহ বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। যাদের অধিকাংশের বাড়িতে এখনো হাটু পানি। এরা আশ্রয় নিয়েছেন ধোনার চর বেড়ী বাঁধ, ডিসি রাস্তায়, আরডিআরএস ফেডারেশন অফিসসহ গোলাবাড়ি, ধোনার চর চাংড়া পাড়া ও চাকতি বাড়ি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে।’

কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের এখনো তিনটি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ১৫০টি পরিবার আশ্রিত আছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলি হলো ভগবতীপুর গুচ্ছ গ্রাম, রহমতপুর গুচ্ছ গ্রাম ও ব্রহ্মপুত্র আবাসন কেন্দ্র। এই পরিবারগুলো বাড়ি ঘরে এখনো পানি থাকায় তারা তাদের নিজ আবাসস্থলে ফিরতে পারেনি।’

চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হানিফা জানান, তার ইউনিয়নের ধোনার বাড়ি এলাকাটি বন্যায় নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় এখানকার প্রায় ১৫০টি পরিবার এখনো বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত থাকলেও ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, ‘আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দিয়েছি। এখন পর্যন্ত বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ আসলে ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্তদের মাঝে তা বিতরণ করা হবে।’

স্বাআলো/ডিএম