চলতে ফিরতে দেখি দেখে না প্রশাসন

রুকুনউদ্দৌলাহ্ : অগণিত অসহায় মানুষের প্রতিচ্ছবি প্রতিনিয়ত চলতে ফিরতে চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু দেখে না কেবল প্রশাসন। অথচ এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে প্রশাসনের।

করোনার বিষয়কে কেন্দ্র করে সরকারিভাবে প্রণীত নিয়ম-নীতিতে হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। আর তা জনসাধারণের কষ্টের কারণ হলেও প্রশাসনের চোখে পড়ছে না অথবা অবহেলা ও উদাসিনতায় দেখছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন গণপরিবহন বন্ধ থাকার পর শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেয়া হলো। এর পেছনে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ ছিল। শর্ত হলো গণপরিবহনে আগের মতো গুড় গাদা অবস্থায় যাত্রী ওঠানো যাবে না। এজন্য মালিকদের আর্থিক ক্ষতি পোষাতে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হলো। এতে জনসাধারণ আশংকা করেছিলেন এই বর্ধিত ভাড়া আগের জায়গায় আর ফিরবে না। শুধু তাই নয়, কিছু দিন পর এ শর্ত ভঙ্গ করে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অধিক যাত্রীও তুলবে এবং বর্ধিত ভাড়াও আদায় করবে।  কাঙালের কথা বাসি হলে ফলে। তাই হলো। অল্প দিন না যেতেই জনসাধারণের সেই আশংকা বাস্তব হয়ে দেখা দিয়েছ্।ে প্রশাসন এই  বোঝা তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে নাকে খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে সুখ নিদ্রায় ঘুম যাচ্ছে। একে আয় নেই, তারপর বাড়তি একটা খরচ চাপিয়ে দিয়ে জনসাধারণকে পিষে ফেলার কল পাতা হয়েছে।

বাসে এক সিটে একাধিক যাত্রী বসানো নিষেধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। অর্থাৎ বর্ধিত ভাড়া ঠিক নেয়া হচ্ছে এবং এক সিটে একাধিক যাত্রী বসানোতো হচ্ছেই তার ওপর দাঁড় করানো যাত্রী তুলে বাসের ভেতরকার অবস্থা আগের সেই গুড় গাদা পরিস্থিতি করে তুলছে। এ বিষয়ে কোনো যাত্রী আপত্তি করলে তাকে নাজেহাল করা হচ্ছে। সব চেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনলে তারা নিয়মের নামে যা দেখাচ্ছে তাতে প্রকারন্তরে পরিবহন মালিকদের পক্ষে যাচ্ছে এবং জনসাধারণের পকেট কাটার স্থায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে জানানোর পরামর্শ দিচ্ছে। সেখানে যোগাযোগ করা হলে লিখিতভাবে আবেদন করতে বলা হচ্ছে।

পরিস্থিতি যা তাতে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ ও বাড়তি ভাড়া নেয়ার ক্ষেত্রে যে কিছুই হবে না তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিয়মের নামে দায় এড়ানোর এ কৌশল নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। এক তরফাভাবে বাড়তি ভাড়ার বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে এখন অনিয়ম প্রতিরোধে আবেদন করতে হবে কেন? ভাড়া বাড়ানোর সময় কি জনসাধারণ ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করেছিল? স্বাস্থ্য বিভাগ মাস্ক পরার ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এজন্য কি কারো কাছ থেকে কি আবেদন নিয়েছে নাকি কারো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছে? একটি নিয়ম লঙ্ঘন হচ্ছে। সংশিশ্লষ্ট কর্তৃপক্ষ সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। এটাই নিয়ম। দায়িত্ব পালন  না করে বাঙালির নিয়ম শেখাতে বসেছে। আর এ দিকে প্রবর্তিত নিয়মে জনগণের পকেট উজাড় হচ্ছে। অতএব যারা কাজটি করেছে তাদেরকেই তা প্রতিহত করতে হবে। গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ও বাড়তি ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে গণরোষ কিন্তু সৃষ্টি হচ্ছে। মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের সংখ্যাটাই দেশে বেশি। মূলত তাদের ত্যাগ, তাদের শ্রমে দেশের কল্যাণ হয়। এই গরিষ্ঠ মানুষের সমস্যা ও কষ্টের কথা সরকারিভাবে খোঁজ নিয়ে তাদের বাঁচাতে উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতাকে যথাযথ জবাবদিহিতার ভেতর আনতে হবে।

স্বাআলো/কে