ঝিকরগাছায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম, তদন্তের আবেদন

যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণের অনিয়ম তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। ইউনিয়নের বামনআলী গ্রামের মীর আরিফুর রহমানের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য মেরাজ হোসেন মিঠু আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ আবেদন করেছেন।

আবেদন পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদ উল আজহা উপলক্ষে গদখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রায় দুইশ অসহায় মানুষকে ভিজিএফের চাল দেয়নি। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত স্লিপ নিয়ে ২৮ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদে চাল আনতে গেলে তাদের বলা হয় পরের দিন আসতে। পরের দিন তাদেরকে ফের বলা হয় আগামীকাল আসতে। শেষে ৩০ জুলাই তারা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখেন তালাবদ্ধ। তখন ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হন স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আশরাফ উদ্দীন। তিনি বঞ্চিতদেরকে চাল দেয়ার আশ্বস্ত করেন।

আবেদনপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে জন প্রতি ১০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে ৮ কেজি করে। সে হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১০-১২ মেট্রিক টন চাল চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

সংসদ সদস্যের ইউনিয়ন প্রতিনিধি আশরাফ উদ্দীন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম অসহায় ও দুই ছাত্রলীগ কর্মীদেরকে ভিজিএফ চাল দিতে সুপারিশ করে ছিল। সে কারণে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সাথে আলাপ করে প্রায় দুইশ স্লিপের চাল ৩০ জুলাই বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন সকাল থেকে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। শেষমেশ আমি বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শুভাগত বিশ্বাসকে জানালে তিনি জানান, স্লিপধারীরা অবশ্যই ভিজিএফ’র চাল পাবেন। ঘটনা জানতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে সারাদিন চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এবিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমান জানান, গদখালী ইউনিয়নে ভিজিএফ’র চাল বিতরণের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা বিএম কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাআলো/এসএ