ফর্মে ফিরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফর্মে ফিরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি এখন আবার কর্মব্যস্থতায় ভরপুর হয়ে গেছেন। মাঝখানে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন, বাসায় বসে টুকটাক দায়িত্ব পালন ছাড়া আর কিছুই করতেন না। কিন্তু ঈদের আগে থেকেই তিনি আবার ফর্মে ফিরেছেন। নিয়মিত মন্ত্রণালয়ে আসছেন, সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন আর সচিব বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা যদি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোন আপত্তি বা অনীহা দেখাচ্ছেন তাহলে তিনি বলছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে, এভাবে করুন। যেমনটি ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে করেছেন ঠিক তেমনিভাবে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মধ্যে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের জন্য তিনি মরিয়া চেষ্টা করছেন। আগের বিষণ্নতার রোগও তার কেটে গেছে। মাঝখানে প্রায়ই তিনি তার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করতেন, বলতেন তিনি হয়তো চলে যাবেন। এক ধরণের আড়ষ্টতা এবং ব্যর্থতার গ্লানি ছিলো তার মধ্যে। কিন্তু এখন আর সেসব নেই। বরং পুরনো ফর্মে তিনি ফিরছেন। তার ঘনিষ্ঠদের তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়েই তিনি কাজ করছেন। সচিবকে তিনি নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। আর এই সমস্ত কারণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনো নিজেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বি মনে করছেন বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠসূত্রগুলো বলছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আবার চাঙা হওয়ার কারণ একাধিক।

প্রথমত, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাবেক স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের বিরোধ ছিলো প্রকাশ্য। তার বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষেত্রে তিনি চিন্তাভাবনা করতেন। পারতপক্ষে তার সঙ্গে বিরোধে জড়াতেন না। এরফলে স্বাস্থ্য অধিদফতরে মন্ত্রীর অনেক ইচ্ছা অনিচ্ছাই মূল্যহীন হয়ে থাকতো। স্বাস্থ্য অধিদফতর চলতো তৎকালীন মহাপরিচালকের একক কর্তৃত্বে। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদফতরে মন্ত্রীর পছন্দের কোন ব্যক্তিকে পদায়ন করার ক্ষেত্রেও মহাপরিচালকের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। মহাপরিচালক আপত্তি জানালে সেটি করা হতো না।

উল্লেখ্য যে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিচালক প্রশাসন হিসাবে তার পছন্দের একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন মহাপরিচালকের তীব্র আপত্তির মুখে তাকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ অধিদফতরের ওপর মন্ত্রীর কোন নিয়ন্ত্রণ ছিলো না। আবার অন্যদিকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তৎকালীন সচিবের সঙ্গেও তেমন বনিবনা ছিলো না স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই দুটি পদেই পরিবর্তন এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন মহাপরিচালকের সঙ্গে এখন পর্যন্ত মন্ত্রীর সম্পর্কটা ভালোই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন মহাপরিচালককে নিয়ে একটা টিমওয়ার্ক গড়ে তোলারও চেষ্টা আছে মন্ত্রীর। সবকিছু মিলিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আবার পুরনো ফর্মে ফিরছেন। কিন্তু তার শুভাকাঙ্খিরা বলছেন, তাকে কথা কম বলতে হবে। কথা বললেই তিনি বিতর্ক ছড়ান। এই বিতর্ক থেকেই তিনি সমালোচিত হন। আজকেও যেমন তিনি নতুন বিতর্ক তৈরী করলেন। তিনি বললেন, বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয় না, অনুসন্ধান করা হয়। এ ধরণের মন্তব্য করে বিতর্ক ছড়ানোর চেয়ে বরং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাআলো/এসএ