করোনার সেকেন্ড ওয়েভের শঙ্কা প্রবল হচ্ছে: ডা. আব্দুল্লাহ

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ঈদুল আজহার পর থেকেই আমরা লক্ষ্য করছি করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব চলে এসেছে। রাস্তায় ভিড় বাড়ছে। সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে মানুষ গা ঘেষাঘেষি করে চলাফেরা করছে। এমন অবস্থায় দেশে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ আসার শঙ্কা প্রবল হচ্ছে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। ঈদের পর তারা আবার কর্মস্থলে যোগ দিতে শহরমূখী হচ্ছে। এই আসা যাওয়ার পথে খুব কম মানুষই স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনেছে। ফলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি ছিলই। আর এখন ঈদের পর আবারও কর্মব্যস্ত হচ্ছে শহরগুলো। সেই সঙ্গে মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখার প্রবণতাও বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিধির প্রতিও উদাসীনতা চলে এসেছে। ফলে আমাদের দেশের করোনা সংক্রমণ আরও প্রকট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, দেশে ঈদের আগেও পরীক্ষা বিবেচনায় প্রতিদিন ২০ শতাংশের বেশি মানুষ আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছিল। সুতরাং ঈদের আগে সংক্রমণ কম ছিল সেটা বলার সুযোগ নেই। তার উপরে এখন মানুষের মধ্যে গা ছাড়া ভাব চলে এসেছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের করোনা পরিস্থিতি ভালো হওয়ার বদলে খারাপ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

প্রবীণ এই চিকিৎসক আরো বলেন, আমরা দেখেছি যুক্তরাষ্ট্র, ইতালিসহ বেশ কিছু দেশে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ এসেছে। এসব দেশে দেখা গেছে যে, সংক্রমণ যখন একটু কমতে শুরু করেছিল, তখনই মানুষ করোনা নিয়ে ভয়ডর ঝেড়ে ফেলে বাইরে বের হয়ে এসেছিল। সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে প্রতিপালনও করেনি। এর ফলে সে সব দেশে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও এখন দেখতে পাচ্ছি করোনা নিয়ে মানুষের ভয় কেটে গেছে। বেশ কিছুদিন ধরে মানুষ দেখছে, সংক্রমণের সংখ্যাখুব একটা বাড়ছে না, মৃত্যুও হচ্ছে একই হারে। তাছাড়া করোনা ভ্যাকসিন নিয়েও একের পর এক সুখবর আসছে। এ বছরের মধ্যেই ভ্যাকসিন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এসব খবর মানুষের মধ্যে সাহস তৈরি করছে। এই সাহসটাই অনেক ক্ষেত্রে আমাদের উদাসীন এবং অসচেতন করে তুলছে। সমস্যাটা এখানেই।

প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত চিকিৎসক সবাইকে সতর্ক করে বলেন, এখন আমাদের অসচেতন এবং উদাসীন হওয়ার সময় নয়। বরং এখন আরও বেশি করে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। কারণ অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার হাট যান বাহন সবকিছুই এখন স্বাভাবিক নিয়মে চলতে শুরু করেছে। মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি করে বাইরে বের হচ্ছে। ফলে এখন করোনা ছড়ানোর শঙ্কা আগের চেয়েও বেশি। এজন্য আমাদের প্রত্যেককে আরো সচেতন হতে হবে। মাস্ক পড়তেই হবে। সাবান পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড করে হাত ধুতে হবে। সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্বটাও বজায় রাখতে হবে। এরপরও কারও যদি করোনার লক্ষণ উপসর্গ দেখা দেয় তাকে পরীক্ষা করাতে হবে। কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেশন আগের নিয়মেই প্রতিপালন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আমরা যদি শিথিলতা দেখাই সেটা হবে নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনার সামিল।

স্বাআলো/এসএ