চৌগাছার সেই ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে আবারো ইউএনও’র কাছে অভিযোগ

chowgacha

চৌগাছার হাকিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউনিয়নের ৪নং হাকিমপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আক্তারুজ্জামানের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ১৮ জুন তার বিরুদ্ধে এই তদন্তের অংশ হিসেবে গণশুনানি করেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা চৌগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র পাল।

ওই তদন্তের মধ্যেই ২১ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ওই ইউপি সদস্যের বরুদ্ধে ৩১ জন নারী-পুরুষ তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সহায়তার কার্ড ও কাজ দেয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে একটি গণ অভিযোগ দেন। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম সেটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ণ চন্দ্রপালকে দুদকের দেয়া অভিযোগের তদন্তের সাথে অন্তর্ভূক্ত করতে নির্দেশ দেন।

আরো পড়ুন>>>  পরিবর্তন হচ্ছে চৌগাছার ৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম

তবে ওই অভিযোগ জমা দেয়ার পর এ বিষয়ে কোন তদন্ত করা হয়নি বা ভূক্তভোগীদের কোন বক্তব্যও নেয়া হয়নি অভিযোগে একই অভিযোগ আবারো বুধবার চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এনামুল হকের নিকট জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে তারা গণস্বাক্ষরকৃত অভিযোগপত্র জমা দিয়ে ফিরে যান ভূক্তভোগী নারী ও পুরুষরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ জমা দিতে আসা নারী ও পুরুষরা এসময় কথা বলেন স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে। ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের স্বপ্নার অভিযোগ তাকে চালের কার্ড (ভিজিডি) করে দেয়ার নামে ৪ হাজার ৫শ টাকা নিয়েছে মিলন মেম্বার, জোসনা রাণির অভিযোগ চালের কার্ডের (ভিজিডি) নামে ৪ হাজার, যাত্রাপুরের চম্পার কাছ থেকে রাস্তার কাজ দেয়ার নামে ৩ হাজার, হাকিমপুর গ্রামের সাজ্জাদের নিকট থেকে মাটিকাটা (এলজিইডির সড়ক মেরামত প্রকল্প) কাজ দেয়ার নামে ১৭ হাজার, একই গ্রামের আনোয়ারার নিকট থেকে মাতৃত্বকালীন ভাতার নামে ২ হাজার ৫শ টাকা নিয়েছেন মেম্বার। বেড় তাহেরপুর গ্রামের জরিনার কাছ থেকে বিধবা কার্ডের নামে ৪ হাজার টাকা, মাঠ হাকিমপুর গ্রামের বিন্দু রাণির বিধবা কার্ডের নামে ১০ হাজার, তাহেরপুর গ্রামের নাছিমার চালের কার্ডের (ভিজিডি) নামে ৪ হাজার, তাহেরপুর গ্রামের ছালেহার চালের কার্ডের (ভিজিডি) জন্য ৩ হাজার, সিতা রাণির চালের কার্ডের (ভিজিডি) নামে ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন তিনি। মাঠ হাকিমপুর গ্রামের ঝর্ণার কাছ থেকে রাস্তার কাজের (এলজিইডির সড়ক মেরামত প্রকল্পে) নামে ১২ হাজার, মঞ্জুরীর রাস্তার কাজ দেয়ার নামে ৫ হাজার এবং তার শ্বাশুড়ির বিধবা ভাতা বা চালের কার্ড করে দেয়ার জন্য ৪ হাজার, মাঠ হাকিমপুরের কবিতা রাণির শ্বশুরকে প্রতিবন্ধী ভাতার নামে ৭ হাজার ৫শ, পান্নার রাস্তার কাজ দিতে ১০ হাজার, টুম্পার রাস্তার কাজের নামে ১০ হাজার, রেখার শ্বাশুড়ির বিধবা ভাতার নামে ৩ হাজার, মমতার মাতৃত্বকালীন ভাতার নামে ৫ হাজার এবং কৃষ্ণার কাছ থেকে টিউবঅয়েল দেয়ার নামে ৩ হাজার টাকা নিয়েছেন।

অভিযোগ দিতে আসা সবার বক্তব্য আক্তারুজ্জামান মিলন মেম্বার নিজে তাদের বাড়িতে গিয়ে এই টাকা নিয়েছেন। কারো কাছ থেকে ১ বছর, কারো ২ বছর এমনকি ৩ বছর আগেও এই টাকা নিয়েছেন মেম্বার মিলন।

অভিযোগকারীদের কথা মেম্বার আমাদের টাকাও ফেরৎ দিচ্ছেন না আবার কার্ড বা কাজও করে দিচ্ছেন না। তার কাছে গেলেই বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকী দিচ্ছেন। আবার বলছেন তাড়াতাড়িই হয়ে যাবে।

উল্লেখিতরা ছাড়াও লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন জামেনা, রেখা, আরতী রাণি, ফুলঝুরি, রাণি, আরতী, মায়া, আজিজুর, নারান ও বালা রাণি, পবিত্রা, হাসেম। এদের মধ্যে নারানের কাছ থেকে বয়স্ক ভাতার জন্য ২ হাজার, বালার বয়স্ক ভাতার জন্য ২ হাজার, আজিজুরের প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য ৩ হাজার, মায়ার বিধবা ভাতার জন্য ৩ হাজার, রেখার রাস্তার কাজের নামে ১০ হাজার, রাণির চালের কার্ডের জন্য ৩ হাজার, পবিত্রার কাছ থেকে ৫ হাজার, হাসেমের কাছ থেকে ৩ হাজার, ফুলঝুরির বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছেন মেম্বার মিলন।

লিখিত অভিযোগে তারা জানিয়েছেন, আমরা হাকিমপুর ইউনিয়নের ৪নং হাকিমপুর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আক্তারুজ্জামান মিলন একইসাথে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি আমাদের কাছ থেকে চাউলের কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, এলজিইডির সড়ক মেরামতের কাজ এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এখন আমরা কার্ড অথবা টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে আমাদের হুমকি দেয় এবং বলে আমি হাকিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। প্রশাসন আমার হাতের মুঠোয়। এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়কে হুমকি দিয়ে বলে টাকা চাইলে ইন্ডিয়া পাঠিয়ে দেয়া হবে। এসব কর্মকান্ডের সাথে তার ভাই পলাশ পেশী শক্তি দেখিয়ে মানুষজনকে হুমকি দি”েছ। আমরা এতদিন তাদের ভয়ে কোন কিছু বলতে পারি নি। আমরা টেলিভিশন ও বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি যে, দেশ নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে বলেছেন। তাই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণঅভিযোগ করিলাম।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, আমি বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট যথাসময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রদান করেছি। তিনি সেটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এনামুল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, দুদকের অভিযোগটি আমার আগের ইউএনও স্যারের সময়ের। তবে সেটি তদন্তের করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য ইউপি সদস্য আক্তারুজ্জামান মিলনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

স্বাআলো/এসএ