রাশিয়ায় ভ্যাকসিন আবিষ্কার, পুতিনের মেয়েকে টিকা প্রদান

রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাসের টিকার অনুমোদন দিয়েছে। ইতিমধ্যে এই টিকা দেশটির প্রেসিডেটের মেয়েকে দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। খবর রাশিয়া টুডের।

বিশ্বের ১৬০ রকম ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে এখনো ৬টি মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। তৃতীয় স্তরের ভ্যাকসিন ট্রায়ালে রয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকা, আমেরিকার মোডার্না, চিনের সিনোভ্যাক।

রাশিয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করছে গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি। সংস্থার ডিরেক্টর অলেক্সান্ডার গিন্টসবার্গ বলেছেন, সরাসরি করোনার স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার না করে অন্য ভাইরাসের সঙ্গে আরএনএ প্রোটিন মিলিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। সর্দি-কাশির জন্য দায়ী যে অ্যাডেনোভাইরাস, তাকেই ভেক্টর হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।

এই অ্যাডেনোভাইরাস মামুলি সর্দি-জ্বর ছড়ায়, প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। অ্যাডেনোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে তার মধ্যে করোনার স্পাইক (S) প্রোটিন মিশিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে।

ভাইরোলজিস্টরা জানিয়েছেন, করোনার যে আরএনএ প্রোটিন স্ক্রিনিং করা হয়েছে তাকে আগে নিষ্ক্রিয় করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, যাতে এই ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকলে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় না বাড়তে পারে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিও অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। সেই একই পদ্ধতিতে টিকা তৈরি করেছে রাশিয়ার গ্যামেলিয়া ইনস্টিটিউটও।

ভাইরোলজিস্টদের দাবি, সেফটি ট্রায়ালে এই টিকার সাফল্য দেখেই মানুষের শরীরে ইনজেক্ট করার পরিকল্পনা করা হয়। দেখা গেছে, টিকা শরীরে ঢুকে কোনওরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটায়নি। তার মানেই, টিকা কাজ করা শুরু করে দিয়েছে। টিকার প্রভাবে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেছে গ্যামেলিয়া।