রিজেন্ট, জেকেজির পর এবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক কেলেঙ্কারি ফাঁস

প্রতিষ্ঠান গাড়ির যন্ত্রপাতি আমদানির, তার সাথেই দ্বিগুণ মূল্যে পিপিই সরবরাহের জন্য ৩২ কোটি টাকার চুক্তি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর! চুক্তির দেড় মাসের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা থাকলেও ৩ মাসেও দিতে পারেনি তারা। উল্টো তুলে নিয়েছে অগ্রিম ৯ কোটি টাকা। চুক্তিতে উল্লেখিত জাদিদ অটোমোবাইলসের ঠিকানায়ও এ প্রতিষ্ঠানটিকে পাওয়া যায় নি। রিজেন্ট, জেকেজির পর এবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে চুক্তি জালিয়াতির এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

দেশে করোনা শুরুর পর ১ হাজার ২৭ কোটি টাকার জরুরি ফান্ড গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত ১৯ মে ৫০ হাজার পিস কাভারঅল পিপিই, ৫০ হাজার পিস কেএন ৯৫ মাস্ক, ৫০ হাজার পিস এন ৯৫ মাস্ক ও ১ লাখ পিস হ্যান্ড গ্ল্যাভসের জন্য ৩২ কোটি টাকার চুক্তি করে জাদিদ অটোমোইলস নামে একটি গাড়ির যন্ত্রপাতি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সাথে! বাজারে ভালো মানের একটি পিপিইর দাম ২ হাজার টাকা করে হলেও জাদিদ তাদের পিপিইর দাম ধরেছে ৩ হাজার ৯০০ টাকা।

চুক্তিতে উল্লেখিত জাদিদের ঠিকানা বর্ধিত পল্লবীর ৬ নম্বর বাড়িতে গিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি।

বাড়ির মালিক রাশেদ মোশাররফ বলেন, উনি তো দীর্ঘদিন অটোমোবাইলের সাথে জড়িত। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে তার ভাল সম্পর্ক রয়েছে। করোনার কারণে তিনি আর রেগুলার এখানে আসেননি।

সরকারের সাথে করা চুক্তিতে পণ্যের মান সুস্পষ্ট করার নিয়ম থাকলেও ইআরপিপির তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ডাক্তার ইকবাল কবির স্বাক্ষরিত চুক্তিতে সেটা নেই। বিদেশ থেকে পন্য আমদানি করতে ওষুধ প্রশাসনের এনওসি নিতে গেলে প্রথম দফায় অনুমতি দেয়া হলেও দ্বিতীয় দফায় অনুমতি দেয়ার আগে বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় চুক্তির সত্যতা জানতে গত ৯ জুলাই অধিদপ্তরে চিঠি দেন ওষুধ প্রশাসন। তার উত্তর মেলেনি এখনো।

এছাড়া চুক্তিতে দেড়মাসের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা বলা হলেও প্রায় ৩ মাসেও কোন পণ্য জমা পড়েনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টোরে।

ইআরপিপির মান যাচাই কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শাহনীলা ফেরদৌসী বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে কোন পিপিইর মান যাচাই করা বা এ ধরনের কোন কাজে জড়িত ছিল না।

চুক্তিপত্রে অগ্রিম বিলের ক্ষেত্রে অংকে ২০ ভাগের কথা বলা হলেও কথায় ৩০ ভাগ বিল দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এ অনুযায়ী অধিদপ্তর থেকে ৯ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা সাউথ ইস্ট ব্যাংকের বনানী শাখার একটি অ্যাকাউন্টে তুলে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন জাদিদের সত্ত্বাধিকারী কাজী শামীমুজ্জামান কাঞ্চন।

স্বাআলো/ডিএম