বৈধভাবে ভিয়েতনাম গিয়েও দালালের খপ্পরে, ফিরলেন ১০৭ বাংলাদেশি

বৈধভাবে ভিয়েতনাম গিয়ে চাকরি না পেয়ে দেশে ফিরেছেন ১০৭ বাংলাদেশি কর্মী। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় ইউ-এস বাংলার একটি চাটার্ড ফ্লাইটে ভিয়েতনামের হ্যানয় থেকে যাত্রা করে বিকেলে তারা ঢাকায় পৌঁছান। তাদের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন করোনায় ভিয়েতনামে আটকা পড়া পাঁচ বাংলাদেশি।

মঙ্গলবার দেশে ফেরা কর্মীদের অনেকে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে তাদের বৈধ উপায়ে ভিয়েতনাম পাঠিয়েছিল বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি। কিন্তু তাদের সঙ্গে যে চাকরির চুক্তি হয়েছিল ভিয়েতনামে গিয়ে তা পাননি। বরং দালালের খপ্পরে পড়েন। দালালরা তাদের পাসপোর্ট আটকে রেখে নামমাত্র বেতনে বিভিন্ন জায়গায় খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য করে। টাকার জন্য নির্যাতন করে। অনেক কর্মী বাধ্য হয়ে দেশ থেকে পাঠানো টাকা দালালদের দিয়েছেন। পরে নির্যাতনের বিষয়গুলো সংবাদ মাধ্যমে এলে সরকার ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।

গত মাসের শুরুতে ১১ বাংলাদেশি দেশে ফেরত এলে চাকরি নিশ্চিত না করেই ভিয়েতনামে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর তিন রিক্রুটিং এজেন্সির কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে আইনানুযায়ী কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে খরচ দিতে রাজি হয় এজেন্সিগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় এসব কর্মী মঙ্গলবার দেশে ফেরেন।

ভিয়েতনামস্থ বাংলাদেশ দূতবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ১০৭ বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়েছে। দূতাবাসের তৎপরতায় তাদের পাসপোর্ট উদ্ধার করে দিয়েছে ভিয়েতনাম সরকার। মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় দেশটিতে অবস্থানের জরিমানা মওকুফ করা হয়েছে। হ্যানয় বিমানবন্দরে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের বিদায় জানান ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ।

২০১৪ সাল থেকে প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিয়েতনাম পাঠিয়েছে রিত্রক্রুটিং এজেন্সিগুলো। কিন্তু ভিয়েতনামস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, দেশটিতে বিদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ নেই। অথচ এসব কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়ে স্টার্টকার্ড দিয়েছিল সরকার।

স্বাআলো/এসএ