স্বাস্থ্যখাতের আরেক কেলেঙ্কারি, ২৭ কোটি টাকা হরিলুট!

ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে ১ লাখ পিস কেএন নাইন্টি ফাইভ মাস্ক কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এছাড়া দ্বিগুণ মূল্যে কেনা হয়েছে ২ লাখ পিস পিপিই। মাস্ক ও পিপিই জমা দিয়ে এর মধ্যে সাড়ে ২৭ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে এসআরএস ডিজাইন অ্যান্ড ফ্যাশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

অনুমোদনহীন এসব মাস্ক এরইমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে দেশব্যাপী চিকিৎসকদের সুরক্ষায়। এ ঘটনার ব্যাপারে দায় নিচ্ছেন না ইআরপিপির প্রকল্প পরিচালক। বলছেন, জালিয়াতির বিষয় দেখা মন্ত্রণালয়ের কাজ।

চুক্তিপত্রে ঠিকানা স্পষ্ট করা নেই, বাইরে নেই কোনো সাইনবোর্ডও। সাভারের রাজফুলবাড়িয়ায় অন্য একটি গার্মেন্টেসের ভিতরে ভাড়া করা দুটি ফ্লোরে খুঁজে পাওয়া যায় এসআরএস ডিজাইন অ্যান্ড ফ্যাশনকে।

সরেজমিনে ভিতরে প্রবেশের পর দেখা যায় চলছে পিপিই প্রস্তুতি। দেশে করোনা শুরুর পরই রাতারাতি এখানে কারখানা খুলে কাজ শুরু করে তারা।

এর আগে গাড়ির কোম্পানি জাদিদ অটোমোবাইলসকে পিপিই সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ইআরপিপি প্রকল্পে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এ প্রকল্পেই ১ লাখ পিস অনুমোদনহীন কেএন৯৫ মাস্ক সরবরাহ করেছে এস আরএস ডিজাইন।

গত ১৭ এপ্রিল ১ লাখ পিস কেএন ৯৫ মাস্ক সরবরাহের জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা এবং ১৯ মে ২ লাখ পিস পিপিই সরবরাহের জন্য ২৪ কোটি টাকার দুটি চুক্তি করে এসআরএস ডিজাইন। চুক্তির ১ মাসের মধ্যে তুলে নেয় পুরো সাড়ে ২৭ কোটি টাকা।

চুক্তি অনুযায়ী এসব পণ্য সরকারের প্রকল্পে সরবরাহের জন্য এনওসি নিতে হবে ওষুধ প্রশাসন থেকে। কেএন ৯৫ মাস্ক দেশে উৎপাদন না হওয়ায় তা আমদানি করতেও নিতে হবে আলাদা অনুমোদন। অনুমতি ছাড়া মাস্ক সরবরাহের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির অজুহাত, আমদানির পরিবর্তে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে মাস্ক কিনেছে তারা।

এসআরএস ডিজাইন অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান সাফু বলেন, যারা আমদানি করছে তাদের কাছে কাগজ আছে। তারা এনওসি নিয়ে মাঠ থেকে অ্যাপ্রুভাল করেছে। কিন্তু তখন দরকার ছিল তাই এক লাখ আমরা সাপ্লাই দিয়েছি।

সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে মান যাচাই না করেই নেয়া হয়েছে পিপিই ও মাস্কগুলো। প্রকল্পে বর্তমানে মজুত আছে ৫৬ হাজার পিপিই এবং ২৭৬০টি মাস্ক। বাকিগুলো সারাদেশের চিকিৎসকদের সরবরাহও করা হয়েছে। ইআরপিপি প্রকল্পে এসব জালিয়াতির দায় নিতে রাজি নন নতুন প্রকল্প পরিচালক।

ইআরপিপি প্রকল্প পরিচালক ডা. শামীম হাসান বলেন, এসবের কাজ মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের। আমরা সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।