ভ্যাকসিন নিয়ে সিদ্ধান্তহীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

রাশিয়ার ভ্যাকসিন স্পুটনিক-৫ এর উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এই ঘোষণা দিয়েছে। চীনের ভ্যাকসিন এডি৫-এনকোভ এর প্যাটেন্টও অনুমোদন পেয়েছে। বিশ্বের ২০টি দেশ রাশিয়ার ভ্যাকসিনের জন্য আবেদন করেছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যারা আগে আবেদন করবে, তাদের আগে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। চীনের ভ্যাকসিনের জন্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আবেদন করছে। কিন্তু বাংলাদেশ রাশিয়া এবং চীন কারও ভ্যাকসিনের বিষয়েই আগ্রহ দেখায়নি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে বলা হচ্ছে যে, রাশিয়ার ভ্যাকসিনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ নেই। চীনা ভ্যাকসিন নিয়েও তেমন একটা আগ্রহী নন তারা। একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, যে ভ্যাকসিনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে এবং নিরাপদ হিসেবে বিশেষজ্ঞ মহলে গ্রহণযোগ্য হবে, সেই ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশ নিতে চায়।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত ২৪টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা দেশ ভ্যাকসিনের তৃতীয় বা চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে দুটো ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ আছে। এর মধ্যে একটি হলো অক্সফোর্ডের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন, যেটি এখন বিভিন্ন দেশে মানবদেহে ট্রায়াল চলছে। আরেকটি হলো মর্ডানার ভ্যাকসিন। এটিরও তৃতীয় ধাপে মানব দেহে ট্রায়াল চলছে।

বাংলাদেশের একটি বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মর্ডানার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। যেকোনো সময় তাদের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হবে। সেই সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী মর্ডানার ভ্যাকসিন উৎপাদিত হলে সেই ভ্যাকসিনটি তারা বাংলাদেশে বাজারজাত এবং বিক্রির অনুমতি পাবে।

অন্যদিকে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটি ভারতে উৎপাদনের জন্য অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে সিরাম ইনস্টিটিউট হলো অন্যতম। এই সিরাম ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল হতে পারে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার এবারের বাংলাদেশ সফরের যে ক’টা কারণ ছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল, সিরামের ভ্যাকসিন যেন বাংলাদেশে ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়া হয়, সেটাকে ত্বরান্বিত করার ব্যবস্থা করা।

বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, বাংলাদেশকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, বাংলাদেশ কোন ভ্যাকসিন নেবে এবং কত দ্রুত ভ্যাকসিন পাবে। কারণ এখনই যদি সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তাহলে প্রথম লটের ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসবে না, যে যতই আশ্বাস দিক না কেন।

ভারত যেমন নিজেরা ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন উৎপাদনের স্বত্বও তারা নিয়েছে। আবার তারা রাশিয়ার ভ্যাকসিনের জন্যেও আবেদন করেছে। অর্থাৎ কোনো পথই বন্ধ করা যাবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও আমরা জানি না কোন ভ্যাকসিনে কি পার্শপ্রতিক্রিয়া বা কতটুকু কার্যকর। সেজন্য সব ভ্যাকসিনের পথই আমাদের খোলা রাখতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ শুরুতেই রাশিয়ার ভ্যাকসিনের জন্য দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। চীনের ভ্যাকসিনের জন্যেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য চরম আত্মঘাতী হবে। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় পরবর্তীতে যদি দেখা যায় যে, রাশিয়ার ভ্যাকসিন ভালো, তাহলে রাশিয়ার ভ্যাকসিন পেতে আমাদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে।

জানা যায়, রাশিয়া চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষনায় অনেক এগিয়ে। বিশ্বে অনেক কিছু তারাই প্রথম আবিষ্কার করেছিল, যেগুলো নিয়ে প্রথমে বিতর্ক হলেও পরবর্তীতে স্বীকৃত হয়েছে। এই বাস্তবতায় আমাদের ভ্যাকসিনের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়াটা বিস্ময়কর বলে মনে করছেন অনেকে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবেন। ভ্যাকসিনের সিদ্ধান্ত যদি প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হয়, তাহলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কি করছেন সে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাআলো/ডিএম