অনুপ্রবেশে সহায়তা করা নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগ

সাম্প্রতিক সময়ে দলে অনুপ্রবেশের ঘটনায় বিব্রত আওয়ামী লীগ। জিকে শামিম-পাপিয়া-সাহেদদের মতো ব্যক্তিদের দলে অনুপ্রবেশে সে সকল ব্যক্তি ও নেতা সহায়তা করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের নেতারা জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশের ঘটনায় শেখ হাসিনার অবস্থান জিরো টলারেন্স।

টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় দলটিতে অনেক অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে, যা নানা সময়ে আলোচিত। অনেক সময় অনুপ্রবেশকারীরা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, সাহেদদের মতো লোকেরা এই দলের সঙ্গে কিভাবে সম্পৃক্ত হয়, এটাই আমি আশ্চর্য হই। সাহেদদের মতো লোকেরা দলের যেখানে যেখানে রয়েছে তাদের ‘চালুনি’ দিয়ে চেলে আমরা বের করে আনবো। দলের মিটিংয়ে আমরা খুব শক্তভাবে এটা নিয়ে কথা বলবো।

তিনি বলেন, জেলা কমিটিতে-উপজেলা কমিটিতে কিছু আজেবাজে লোক ঢুকে পড়েছে, আবর্জনা ঢুকেছে। এগুলো আমরা পরিস্কার করে ফেলবো। আমাদের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশ যেখানে যেখানে সাহেদরা ঢুকেছে সব বের করে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন, যে বা যারা দরজাটি খুলে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমনকি এবারের উপ-কমিটিগুলোতে যাতে অনুপ্রবেশকারীরা কোনভাবে সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে বলে জানান নানক।

সম্প্রতি সময়ে টেন্ডার মাফিয়া হয়ে ওঠা জিকে শামিম থেকে শুরু করে, যুবলীগ মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়া, করোনা ভাইরাসের সনদ জালিয়াতির ঘটনায় রিজেন্টের সাহেদ করিম, এমনিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল বিক্রেতা জিনিয়ার অপহরণের ঘটনায় লুপার আওয়ামী লীগ সংযুক্তি বিব্রত করেছে উপ-মহাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলটিকে।

এ প্রসঙ্গে দলের আরেক প্রভাবশালী নেতা-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের ঘটনা আমাদের দলের অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন৷ তিনি নিজেই অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা তৈরি করে, সাংগঠনিক বিভাগগুলোর দায়িত্বে থাকা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের হাতে দিয়েছেন। নেত্রীর নির্দেশনায় মোতাবেক আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে অনেক অনুপ্রবেশকারী দলের পদ হারিয়ে এবং দল থেকে বিতাড়িত হয়েছে৷ আমি এতোটুকু বলতে পারি অনুপ্রবেশের সংখ্যা আমরা কমিয়ে এনেছি। এরপরও যারা রয়ে গেছে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বের করে দেয়া হবে৷

কোনো সুযোগ সন্ধানি মহল, কিংবা আদর্শহীন ব্যক্তি আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি কোনভাবে ক্ষুণ্ন না করতে পারে এবং জনপ্রিয়তায় আঁচড় না ফেলতে পারে, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ সতর্ক। একই সঙ্গে, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে দলে নতুন করে যেন অনুপ্রবেশ না ঘটতে পারে, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সতর্ক৷

সেই সঙ্গে তিনি আরো যোগ করেন, আওয়ামী লীগ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের রাজনৈতিক সংগঠন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ধরণের নেতা, কর্মী সমর্থক আমাদের দলে রয়েছে। এই দলের তৃণমূলের সঙ্গে এতো বেশি সংখ্যক মানুষ জড়িত, যা পৃথিবীর গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় বিরল। সে বিবেচনায় দু-একজন আদর্শহীন মানুষের অনুপ্রবেশ ঘটলে তা ঠেকানো সত্যিই কষ্টকর৷

এমন দু’একজনের অপকর্মের দায় কোন ভাবেই আওয়ামী লীগ নেবে না। ব্যাক্তি অপকর্মের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বাহাউদ্দিন নাছিম।

স্বাআলোে/এসএ