ম্যাজিস্ট্রেট স্বামীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা স্ত্রীর মামলা

বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা নাসরিন।

সোমবার যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন তিনি। বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামি নীলফামারী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি পাবনার সাথীয়া উপজেলার আফতাবনগরে।

সহকারী অধ্যাপক ফারজানা নাসরিন মামলায় উল্লেখ করেছেন, মাসুদ রানা ২০১৯ সালের ২১ জুন শামসি নাহিদ নামে এক নারীকে প্রথমে বিয়ে করেন। যৌতুক দাবিতে নির্যাতনের পর মাত্র সাড়ে চার মাস পর তাদের তালাক হয়ে যায়। এরপর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফারজানা নাসরিনের সাথে তার পরিচয় হয়।

মাসুদ রানা প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে ফারজানা নাসরিনকে পারিবারিকভাবে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন। বিয়ের সময় নাসরিনের বাবা ৫ লাখ টাকার মালামাল ও ২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার প্রদান করেন। কিছুদিন সংসার করার পর ঢাকার পূর্বাঞ্চলে প্লট ক্রয়ের জন্য নাসরিনের কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করেন মাসুদ রানা। তখন মাসুদ রানাকে যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু বাকি ৫ লাখ টাকা দিতে না পারায় নাসরিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন তার স্বামী। মাসখানেক পূর্বে নাসরিনকে বাবার বাড়ি রেখে যান। এ সময় মাসুদ রানা বলেন- যৌতুকের আরো ৫ লাখ টাকা না দিলে তাকে তালাক দেবেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। সর্বশেষ ২৯ আগস্ট মাসুদকে ডেকে এনে যৌতুক ছাড়া সংসার করার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু মাসুদ রানা তাতে রাজি হননি।

স্বাআলো/এসএ