তিস্তার ভাঙনে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন

12

 লালমনিরহাট :  তিস্তার ভাঙনে গত চার দিনে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, ঈদগাঁ মাঠ ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

চলতি বছর জুন থেকে থেমে থেমে বন্যার কবলে পড়ে তিস্তা নদীর বাম তীরের লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলা। বন্যার পানি কমতে শুরু করলে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। আগস্টের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত বড় বন্যা না হলেও তিস্তার পানি প্রবাহ ওঠানামা করছে। পানি কমলে ভাঙন শুরু হয়।

আদিতমারী উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামটির শতাধিক বসতভিটা ও ঈদগাঁ মাঠ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে গোবর্ধন ইসমাইলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙন অব্যাহত থাকলে দুই একদিনের মধ্যে গ্রামটির একমাত্র বিদ্যালয়টিও ভেঙে যাবে বলে শঙ্কিত এলাকাবাসী।

দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যর্থ হলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (ওয়াবদা বাঁধ) বিলীন হয়ে যেতে পারে। সিংঙ্গিমারী, পাসাইটারী গ্রামটি বিলীন হওয়ায় তিস্তা নদীর পানি এখন ধাক্কা দিচ্ছে ওয়াপদা বাঁধে। ফলে বাঁধটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ বাঁধটি বিলীন হলে শত শত একর জমি অনাবাদি হয়ে পড়বে। একইসঙ্গে ভাঙনের মুখে পড়বে কয়েক হাজার পরিবার ও সরকারি বেসরকারি বেশ কিছু স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান। তিস্তা নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় সামান্যতে বন্যা আর ভাঙনের মুখে পড়ে তিস্তাপাড়ের মানুষ। তাই তিস্তা নদী খনন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে নদীপাড়ের মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি বরাদ্দ থেকে জিও ব্যাগের পাইলিং বাঁধের কাজ করা হলেও তার মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে নদীপাড়ের মানুষদের। নদীর তীরে বোমা মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে জিও ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলা হচ্ছে। সপ্তাহ না যেতেই সেই জিও ব্যাগ গড়িয়ে পড়ে বোমা মেশিনের গর্তে গিয়ে ভরাট হচ্ছে। একইসঙ্গে নদী পাড়ে বোমা মেশিন বসানোর কারণে নদী ভাঙনও বেড়েছে কয়েকগুণ। যেখানে বোমা মেশিন বসানো হচ্ছে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেই স্থানে ভাঙন দেখা দিচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের আবু বক্কর ও মনসুর আলী বলেন, চোখের সামনেই সবকিছু ভেসে গেল। ঘরগুলো টিন খুলে সরানো সম্ভব হলেও অনেক আসবাবপত্র তিস্তায় ভেসে গেছে। টিন খুলে রাস্তায় রেখেছি। জমি নেই বাড়ি করার। কোথায় যাবো আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, জেলার ৫টি উপজেলায় ৭৫৯টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারকে পুনর্বাসন করতে টিন ও টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে তা বিতরণ করা হবে। প্রতিনিয়তই নদীর পাড় ভাঙছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাও প্রতিদিন বাড়ছে বলে জানান তিনি।

স্বাআলো/কে