সোয়া লাখ প্রবাসীর আকামা বাতিলের সিদ্ধান্ত কুয়েতের

31

আন্তর্জাতিক : ছুটিতে গিয়ে আটকেপড়া বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সোয়া লাখ প্রবাসীর আকামা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুয়েত সরকার। ফলে এসব শ্রমিক আর দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। এর মধ্যে বাংলাদেশী থাকতে পারে ২৫ হাজার। তবে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল  আশিকুজ্জামান জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে আটকেপড়া প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ একটি তালিকা দূতাবাস থেকে তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে প্রবাসীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে কুয়েতের কর্মস্থল থেকে বাংলাদেশে গিয়ে আটকেপড়া প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ একটি তালিকা কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ওই তালিকায় আপনার নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিম্নের লিংকে ক্লিক করুন। ওই তথ্যাদির ভিত্তিতে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে প্রবাসীদের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

আগস্টে ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা দেয়া দেশগুলোর প্রবাসীদের দ্রুত অনলাইনে আবেদন করা, একই সাথে তাদেরকে সুযোগ-সুবিধাগুলো গ্রহণের জন্য কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অনেকেই গ্রহণ করেনি। এই সময়ে প্রবাসীদের বৈধ আকামার সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। তবে কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক লাখ ২৭ হাজার প্রবাসীর আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে তারা আর কুয়েতে প্রবেশ করতে পারবে না। এর মধ্যে বেশির ভাগ হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের জন্য সব ধরনের ভিজিট ভিসা এবং ওয়ার্ক ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে যাদের আকামা সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ শেষ হচ্ছে তারা এ সুবিধা পাচ্ছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যারা আকামা নবায়নে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের স্পন্সররাই আকামা নবায়নের চেষ্টা করেনি।

এ দিকে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যেসব প্রবাসী দেশে আটকেপড়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে তাদের একটি তালিকা তৈরি করার জন্য ফেসবুকে আবেদন চেয়েছেন। সেখানে প্রবাসীরা তাদের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে পারবেন।

দূতাবাস এসব শ্রমিকের ডাটা সংগ্রহ করে কোম্পানি বা মালিকদের কাছে ক্ষতিপূরণ আদায় করার জন্য দাবি জানাবেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সোয়া লাখ বিদেশী শ্রমিকের মধ্যে বাংলাদেশেই আটকে পড়েছেন ২০-২৫ হাজার শ্রমিক।

স্বাআলো/কে