চৌগাছায় প্রতিবেশীর একের পর এক মিথ্যা মামলায় বিপাকে ঢাবি ছাত্রের পরিবার

19

যশোরের চৌগাছায় বাড়ির দুই পাশের দুই প্রতিবেশীর হিংসায় একের পর এক মিথ্যা মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের এক মেধাবী ছাত্র ও তার পরিবারের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন শেষ হতে বসেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ফুলসার ইউনিয়নের আঁফরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী কর্মচারী নুরুল আমিনের ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। সে ঢাবির বিজয়-৭১ হলের বি’ ব্লকের জে-৪০১১ রুমের আবাসিক ছাত্র। সম্প্রতি তার ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। তাতে সে ৩.৭৫ স্কোর করে উত্তীর্ণ হয়েছে। আর সাইফুলের বড় ভাই রমজান আলী যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের (এমএম কলেজ) মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিবেশী জীবনীনেছা নামে এক নারী যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, চৌগাছা আমলী আদালতে ২০১৪ সালের ২৪ মার্চ একটি মামলা করেন। তাতে তিনি অভিযোগ করেন পূর্ব শত্রুতার জেরে ৬ই মার্চ বেলা ১১টায় সাইফুল তার ভাই রমজান ও বৃদ্ধ পিতা প্রতিবেশী জীবনীনেছার ঘরে প্রবেশ করে আলমারী ও শোকেস ভেঙে ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করে এবং তার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। অথচ ওই দিনই (৬মার্চ) সাইফুল চৌগাছা শহরের পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি’র সমাজ বিজ্ঞান পরীক্ষা দিচ্ছিল। আর তার ভাই রমজান তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। মামলায় এও বলা হয় তারা নাকি লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই ভিক্ষুক (প্রকৃতপক্ষে মাদকব্যবসায়ী ও সুদে কারবারি) নারীর ঘরে প্রবেশ করে।

সাইফুল ও তার ভাই রমজানের পরীক্ষা সেন্টারেই থাকে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তাদের বাড়ি আঁফরা থেকে ১২ কিলোমিটার দুরের চৌগাছা শহরে পৌছাতে বাস ও ভ্যানে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগে। আর ওই নারী তার মামলায় বলেন, ৬ মার্চ বেলা ১১টায় তার বাড়িতে হামলা করেছে। তাদের আরো প্রশ্ন ওই নারী তো নিজেকে ভিক্ষুক দাবি করেন। তাহলে তার ঘরে আলমারি-শোকেস আসলো কোথা থেকে? সাইফুল নিজেই উত্তর দেন আসলে এসব কিছুই না ভাই। শুধুই হিংসা। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ায় তাদের হিংসা আরো বেড়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পরও ওই নারী আমার বাবা-ভাইয়ের সাথে আমার নামে মামলা করেছে। প্রতিহিংসার কারণেই সে একের পর এক আমাদের বিরুদ্ধে চারটি মিথ্যা মামলা করেছে। এসব মামলায় হাজিরা দিতে দিতে আমরা ক্লান্ত। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিমাসেই ছুটি নিয়ে যশোর এসে মামলায় হাজিরা দিতে হয়। একদিন হাজিরা দিতে আমার প্রায় চারদিন সময় নষ্ট হয়। আবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে না আসতে পারায় মামলায় টাইম পিটিশন দিতে হয়। এতে মামলায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।

সাইফুল বলেন, আমাদের বাড়ির উত্তর পাশের প্রতিবেশী ইকবাল যশোর কোর্টের মহুরী হওয়ায় সে কু-পরামর্শ দিয়ে দক্ষিণ পাশের প্রতিবেশীকে দিয়ে এসব মিথ্যা মামলাগুলি করাচ্ছেন। আর এতে সমর্থন দিচ্ছেন ইকবালের মামা আঁফরা মোড় বাজারের ব্যবসায়ী বিল্লাল ও রবিউল এবং তাদের ছেলেরা। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আবুল কাশেম ইকবালের মামা শ্বশুর হওয়ায় সে প্রভাবও দেখান ইকবালের পরিবার। সাইফুল বলেন তারা বিভিন্ন সময়ে আমাদের নানাভাবে হুমকি দেয়। এরই মধ্যে আমাদের জমিতে জীবনীনেছা নিজের পাকা ছাদের বাড়ি তুলেছেন। এসময়ও তার ছেলে আলামিন, বোন আলিমনেছা ও বোনের মেয়ে লিপি আমাদের মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইকবালের বাবা আমাদের দুই ভাইকে হত্যার জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন।

অবশ্য আদালত সাইফুলদের আইনজীবীদের যুক্তি শুনেছেন। মামলাটি থেকে তাদের মুক্তি দিয়েছেন। তাতে সাইফুলদের হয়রানি হতে হয়েছে প্রায় ৪ বছর। অর্থাৎ ২০১৪ সালের প্রথমদিকে করা মামলায় সাইফুলের পরিবার খালাশ পেয়েছে ২০১৭ সালের শেষ দিকে। ২০১৭ সালে করা মামলায় পরিবারটি খালাস পেয়েছে ২০১৯ সালে। একটি ৭ ধারার মামলায়ও আদালত পরিবারটিকে খালাস দেয়। ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট আরেকটি মামলা করেছে ওই নারী। অর্থাৎ একটি মামলায় খালাস পেলেই তাদের নামে আরেকটি মামলা করে জীবনীনেছা।

সাইফুল আরো বলেন, জীবনীনেছার করা সিআর ৪৬/১৪ ছাড়াও সিআর ২০০/১৭ এবং একটি ৭ ধারার মামলায় আদালত আমাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন। কিন্তু মামলায় কোর্ট-থানা হাজিরা দেয়ার হয়রানি, আইনজীবীসহ বিভিন্ন খরচ করতে করতে আমরা আর্থিকভাবে খুব খারাপ অবস্থায় আছি। মানসিক ভাবে চরম আতংকে থাকি। মামলার দুঃশ্চিন্তা, হাজিরার ঝামেলা, আমার উপস্থিতি ও অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদেরকে দুই প্রতিবেশীর তেড়ে মারতে আসা ও হুমকির কথা ভেবে আমার লেখাপড়ার চরম ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি রেজাল্টে আমি ৬ষ্ট সেমিস্টারে ৩.৭৫ স্কোর করেছি। বিশ্বাস করেন এই চরম চাপ না থাকলে আমি আরো ভালো রেজাল্ট করতাম। মামলা আর আমাদের দুই ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে টেনশনে আমার বৃদ্ধা ও অসুস্থ মা তাজিয়া বেগম গত বছর রমজান মাসে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই থেকে তিনি আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সাইফুল বলেন তিনটি মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় কোর্ট আমার পরিবারকে খালাশ দিলে ২০১৯ সালে আমাকে বাদ রেখে আমার পরিবারের অন্য ৩ জনের নামে ওই নারী আরো একটি (৪র্থ) মামলা করেছেন। যার নম্বর সিআর ২২৭/১৯। মামলাটির কার্যক্রম আদালতে চলছে।

সাইফুল অভিযোগ করে আরো বলেন, ওই নারী একাধিক বিয়ে করেছে। সর্বশেষ স্বামীর বাড়ি যশোর সদর উপজেলার সাজিয়ালিতে। সেখানে স্বামী বাড়ি গেলে তার স্বামী আগের স্ত্রী জীবনীনেছাকে মারধর করে জখম করে। জখম দেখিয়ে ১৭ জুলাই ২০১৯ তারিখে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি হয়। তারপর এঘটনায় ৪ আগস্ট আদালতে আমার বাবা-মা-ভাইয়ের নামে মামলা করে। কিভাবে ধৈর্য্য ধরে থাকবো বুলন ভাই? সাইফুল বলেন প্রায় প্রতিবারই চৌগাছা থানায় অভিযোগ দেয় জীবনীনেছা। পুলিশ তদন্তে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে ওইসব মামলা নথিভুক্ত করে না। তখন ওই নারী সাইফুলদের অপর পাশের প্রতিবেশি কোর্টের মহুরী ইকবালের পরামর্শে আদালতে এসব মিথ্যা মামলাগুলো করেন।

গত ১৯ আগস্ট সাইফুল ইসলাম চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নম্বর ৬১৭। সাইফুল অভিযোগ করেন তাদের বাড়ির উত্তরপাশের প্রতিবেশী যশোর কোর্টের আইনজীবী সহকারী (মহুরী) ইকবাল হোসেন, তার পিতা সাইফুল ইসলাম, দক্ষিণ পাশের প্রতিবেশী জীবনীনেছা ও আলিমুন্নেছা এবং ইকবালের দুই মামা বিল্লাল হোসেন ও রবিউল ইসলাম আমাদের নামে বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা মামলা করে আসছে। সেসব বিষয় নিয়ে কিছুদিন ধরে তারা আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। সেই বিরোধের জের ধরে ১৮ আগস্ট বেলা ১২ টার দিকে আমাদের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তার উপর এসে আমি ও আমার ভাইকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ হুমকি দিয়ে বলে আমাদের দুইভাইকে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দিয়ে আমাদের লেখাপড়া নষ্ট করবে এবং আমাদের হাত-পা ভেঙে বাড়িতে ফেলে রাখবে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইফুলের পিতা রুহুল আমীন যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এয়ার বাসের একজন সিভিলিয়ান কর্মচারী হিসেবে ২০১৩ সালে অবসরে যান। তিনি যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের নাটুয়াপাড়া গ্রামে পৈত্রিক ভিটায় বসবাস করতেন। চাকরিস্থলে যাতায়াতে সড়ক যোগাযোগের সুবিধার জন্য ১৯৯৮ সালে বর্তমান আবাসস্থলে ১২ শতক জমি ক্রয় করে তিনি বসবাস করছেন। ইকবাল ও জীবনীনেছা তাদের দুই পাশের প্রতিবেশী। ইকবাল যশোর কোর্টের একজন আইনজীবী সহকারী এবং বর্তমানে ফুলসারা ইউপির মেম্বার হাবিলদার (অব.) আবুল কাশেমের ভাগ্নিজামাই। আবার তার দুইমামা গ্রামের বাজারের ব্যবসায়ী। এসব প্রভাব খাটিয়ে জীবনী নেছাকে দিয়ে সে মামলা করায় বলে সাইফুলের বৃদ্ধ পিতা রুহুল আমীন ও সাইফুলদের দুই ভাইয়ের অভিযোগ। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় জীবনীনেছা লোক দেখানোর জন্য ভিক্ষাবৃত্তি করেন। মূলতঃ তিনি মাদক ও সুদে (স্বল্প-দাদন) কারবারি। তার আরেক বোন আলিমনেছা একাধিকবার মাদক মামলায় জেল খেটেছেন। বোনের মেয়ের জামাই টিটো ওরফে ঘ্যানা টিটো মাদক কারবারি। কয়েকবার অস্ত্র ও মাদকসহ জেলে গেছেন আলিমনেছার জামাই টিটো। এসব সুবাদে সাইফুল ও তার ভাইকে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় তারা।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০১৪ সালের সিআর ৪৬/১৪ মামলাটি শুনানি শেষে ওই বছরের ৪ মে ১৫৮ স্মারকমূলে চৌগাছা থানার ওসিকে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে মামলাটি তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ আকরাম হোসেন ২১ জুন নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে ওই বছরের ২৫ জুন চৌগাছা থানায় নিজ অফিসে উভয় পক্ষকে (সাক্ষী, প্রমাণাদি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ) নিয়ে তদন্ত করেন।

এর তিনদিন পরে ফুলসারা ইউপির সদস্য হাবিলদার (অব.) আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গণ্যমান্য ওলিয়ার, আবুল হোসেন, মফিজ মুন্সিসহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ২০১৪ সালের ২৮ জুন একটি শালিস হয়। শালিসের ৫টি শর্তের মধ্যে ২টি শর্ত ছিল ‘আদালতে উভয়পক্ষের যেসব মামলা আছে তা তারা নিস্পতি করে নেবেন।’ ও ‘ভবিষ্যতে বাদিপক্ষ অহেতুক কাউকে গালমন্দ বা উদ্দেশ্যমূলক কথাবার্তা বা হয়রানি করিতে পারিবে না। উভয় পক্ষের যদি কোন বিরোধ সৃষ্টি হয় তাহলে বিচারকমন্ডলিকে জানাইয়া তাহাদের মাধ্যমে সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে। কোন অবস্থাতেই আদালতে মামলা মোকাদ্দামা করিয়া কাউকে হয়রানী করিবেনা। বিবাদী পক্ষেরও একই শর্ত।’ কিন্তু কে শোনে কার কথা? এরপরও জীবনীনেছা ঢাবি শিক্ষার্থী সাইফুলের পরিবারটির নামে একে একে আরো তিনটি মামলা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইকবাল হোসেন বলেন, তারা আমার নামে কোন অভিযোগ দিয়েছে কিনা জানিনা। আমি তাদের নামে কোন মামলা করিনি। তাদের সাথে আমার জমি নিয়ে বিরোধ আছে। আমিন দিয়ে জমি মেপে আমার জমিতে তাদের গোসলখানা পড়ায় আমি ভেঙে নিয়েছি। তারা যার কাছ থেকে জমি কিনেছেন আমিও তার কাছ থেকে কিনেছি। মূল মালিকের জমি এখনো অবশিষ্ট রয়েছে, ফলে তাদের জমিও তারা পাবেন। তিনি আরো বলেন রাস্তার মধ্যে জমি চলে যাওয়ায় এই সমস্যা হয়েছে। আপনি তাদের মধ্যে জমি পেলে তো তারাও অপর পাশে জমি পাবেন প্রশ্নে তিনি বলেন তা তো পাবেনই। ওপাশের প্রতিবেশী তো অতি সম্প্রতি নিজের ঘর করেছেন এবং ছাদও দিয়েছেন তাহলে কি হবে প্রশ্নে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেন নি।

তবে ইকবাল সাইফুলের বাবার নামে সাংবাদিকদের সামনেও অপবাদ দিয়ে বলেন, উনি নিজের গ্রামে অপরাধ করে টিকতে না পেরে গ্রামবাসীর চাপে এখানে চলে এসেছেন। এখানে এই ২২ বছরে কোন অপরাধের সাথে জড়িত? প্রশ্ন করলে ইকবাল চুপ হয়ে যান।

অন্যদিকে, সরেজমিনে গিয়েও জীবনীনেছা বা তার ছেলেকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে জীবনীর বোন আলিমনেছাকে ওই বাড়িতে পাওয়া যায়। জীবনীনেছা কোথায় জানতে চাইলে সে বলে গ্রামে (ভিক্ষা করতে) গেছে বলেই কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তিনি ওই বাড়ি ত্যাগ করে গ্রামের অন্য বাড়িতে ঢুকে পড়েন।

এসব বিষয় সমাধানের জন্য একাধিকবার বিচারে বসেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১নং ফুলসারা ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরী। ২০১৮ সালের ২১ মার্চ তিনি তার ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে একটি আদেশ দেন। সেখানে বলা হয় ‘‘বাদি (অর্থাৎ সাইফুলের পিতা নুরুল আমীন) ২৬/১০/১৭ তারিখে আমার কার্যালয়ে ১টি মামলা দাখিল করলে আমি আমলে নিয়া উভয় পক্ষকে ৩টি ধার্য্য তারিখ নির্ধারন করিয়া নোটিশ করি। উভয় পক্ষ ধার্য্য তারিখে আদালতে হাজিরা দেয় এবং বিস্তারিত শুনানির পর উভয় পক্ষ পরস্পর পরস্পরের প্রতিবেশি হিসাবে বসবাস করে। প্রতিহিংসার কারনে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে এবং বিবাদী (অর্থাৎ জীবনী বেগম) বাদিকে অর্থাৎ (সাইফুলের বাবা ও পরিবার) সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে বিবরণ সত্য। বিধায় মামলাটি নিস্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় বাদিকে (সাইফুলের বাবা) সুবিচারের জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হইল।’’

এ বিষয়ে মেহেদী মাসুদ চৌধুরী বলেন, ওই নারী খুবই নিচু প্রকৃতির। আমি কয়েকবার তাদের নিয়ে বসেছি। ওই নারী কিছুই বুঝতে চান না, মানতে চান না। সাইফুল ও তার ভাই রমজান কিছুদিন আগেও আমার কাছে এসেছিলেন। তারা খুব কান্নাকাটি করছিলো আর বলছিলো আমরা এখানে আর থাকবো না। অন্য কোথাও চলে যাবো। কিন্তু এই ঝামেলাপূর্ণ জমি কোথায় বিক্রি করবে প্রশ্নে তিনিও কোন জবাব দিতে পারেন না।

মাসুদ চৌধুরী বলেন, ছেলে দু’টি খুবই মেধাবী। পরিবারটির গ্রামের অন্য কারো সাথে কোন বিরোধ নেই। আমি অনেক চেষ্টা করেও তাদের বিষয়টি সমাধান করতে না পারায় উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

চৌগাছা থানার প্রায় সকল সদস্যই জানেন বিষয়টি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা স্বীকার করেন শুধুমাত্র হয়রানির জন্যই পরিবারটির নামে এভাবে একের পর এক মামলা করে চলেছে ওই নারী।

স্বাআলো/এসএ