রংপুরের ৩৪৫ পরিবার বাড়ি পেয়ে খুশিতে আত্মহারা

2

রংপুর : রংপুরের অসচ্ছল, দুস্থ, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন। নজরকাড়া ডিজাইন, রঙিন টিন ও রঙ করা দেয়ালের এই বাড়ি পেয়ে খুশিতে আত্মহারা ভূমিহীনরা। তারা এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

তারাগঞ্জের নছিমন বেওয়া। ভিক্ষা করেই চলে তার জীবন। স্বামীহারা নছিমনের আগে তার বাক প্রতিবন্ধী ছেলে নজরুল ইসলামকে (৪২) সঙ্গে নিয়ে থাকতেন ঝুপড়িতে। ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের পাকা ঘর পেয়ে তিনি বলেন, মুই বেজায় খুশি।

মিঠাপুকুর ফুলচকি গ্রামের ভিক্ষুক রশিদা বেগম বলেন, আজ শান্তিতে ঘুম  যাবার পাইছোল। শেখের বেটিকে ধন্যবাদ দেও হামার মতন নিঃস্ব মানুষগুলোর পাশত দাঁড়াবার জন্য। ঘর পাইতে কাকো কোনো টাকা-পয়সা দেয়া নাগেনি। অনেকে হামাক সাহায্য দিছে, কিন্তু টাকা-পয়সা ছাড়া ঘর পামো এমন আশা কখনও করিনি।  নছিমন-রশিদার মতো ঘর পেয়ে অন্যরাও ছিলেন হাসিতে উজ্জ্বল।

রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা  আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টিআর-কাবিটা কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের ৩৪৫টি পাকা ঘর তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ৫৩টি, তারাগঞ্জে ৪৭টি, বদরগঞ্জে ৪৩টি, রংপুর সদরে ৩৪টি, পীরগঞ্জে ৪২টি, কাউনিয়ায় ৪১টি, মিঠাপুকুরে ৪১টি, পীরগাছায় ৪৪টি। এতে ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৫১ হাজার ৭০০ টাকা।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, জেলার অসচ্ছল, দুস্থ, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪৫টি আধাপাকা বাড়ি তৈরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এই কাজের অংশীদার হতে আমরা খুশি।

তিনি জানান, রংপুর জেলায় ৩৪৫টি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। পরবর্তীতে আরও পাকা বাড়ি তৈরি করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

স্বাআলো/কে