আলু সিন্ডিকেটের কাছে ধরাশায়ী ভোক্তা

4

যশোর: হিমাগার মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দফায় দফায় চিঠি দেয়া হলেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না যশোরের আলুর বাজার। তারা সিন্ডিকেট করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রায় দ্বিগুণ দামে আলু বিক্রি করছেন। এতে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার সব হিমাগার মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের ডাকা হয়েছে।

রবিবার যশোরের খুচরা বাজারে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা দরে আলু বিক্রি হয়েছে। আর পাইকারী বাজারে সেই আলু বিক্রি হয় ৪০ টাকা দরে। যদিও গত শুক্রবার খুচরা বাজারে আলুর দাম ছিলো ৪০ টাকা। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা। সেপ্টেম্বরের শুরুতে যশোরের বাজারে এই আলুর দাম ছিলো ৩৬ টাকা। আর মার্চে বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা দরে। অর্থাৎ ছয় মাসে আলুর দাম বেড়েছে প্রায় তিনগুন।

যদিও আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর হিমাগার থেকে কেজি প্রতি আলু সর্বোচ্চ ২৩ টাকা, পাইকারী পর্যায়ে ২৫ টাকা ও খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা দরে আলুর দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকারের এই নির্দেশনা বাবাস্তবায়নে জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান একাধিকবার হিমাগার মালিকদের চিঠি দিয়েছেন। সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি হিমাগার মালিকদের চিঠি দেন। কিন্তু বাস্তবে তার কোন প্রভাব আলুর বাজারে পড়েনি। দিন দিন এই পণ্যটির দাম বেড়েই চলছে।

সূত্র বলছে, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে প্রায় দ্বিগুণ দামে আলু বিক্রি করতে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। ১০টি বাণিজ্যিক হিমাগারের মালিক, কয়েকজন আলু ব্যবসায়ী ছাড়াও আলু ব্যবসার সাথে জড়িত নয়, এমন একাধিক ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত রয়েছেন। যারা প্রশাসন ও সামাজিকভাবে বেশ প্রভাবশালী। এ কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রির উদ্যোগ নেয়নি ব্যবসায়িরা। উল্টো বর্ধিত দামে আলু বিক্রি অব্যাহত রাখতে একাধিক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন তারা। বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার আলু ব্যবসায়িদের ডাকা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান।

তিনি বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে আলুর বাজার মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সেই নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, হিমাগার থেকে আলু বিক্রি হবে ২৩ টাকা দরে। পাইকারি বাজারে ২৫ টাকা আর খুচরা বাজারে সেই আলু বিক্রি হবে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা দরে। এই মূল্য কার্যকর করতে কয়েক দফা আমরা হিমাগার মালিকদের চিঠি দিয়েছি। সর্বশেষ গত মাসের ৬ তারিখ বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার অফিস থেকে আইন মেনে ব্যবসা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় অভিযান চালানো হবে বলেও সেই চিঠিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত মূল্যে তারা আলু বিক্রি শুরু করেনি। এজন্য যশোর সদর উপজেলার একটি হিমাগারে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর হিমাগার মালিকরা দফায় দফায় গোপন মিটিং করেছেন। এই মিটিংয়ে সাথে আলু ব্যবসায়ীদের বাইরে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরাও ছিলেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হিমাগার মালিকদের হয়েছে। আজ তাদের সাথে মিটিং হবে।

তিনি আরো বলেন, রবিবার যশোরে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা দরে খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হয়েছে। আর পাইকারি বাজারে আলুর দাম ছিল ৪০ টাকা। আমরা কোনভাবেই সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে আলু বিক্রি করতে দেব না। আজ সোমবার মিটিংয়ের পর এই সিদ্ধান্তের বাইরে আলু বিক্রি করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাআলো/আরবিএ