টিনসেড থেকে আলীশান বাড়ি এসআই আকবরের

ব্রাহ্মণবাড়ি : জেলার আশুগঞ্জ থানার বগৈর গ্রামে এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়ার দশ বছর আগেও বাড়িটি ছিল টিনশেডের। এখন গড়ে উঠেছে রাজকীয় প্রাসাদ। সিলেট মহানগরের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে  নির্যাতনে রায়হান নামে এক যুবককে হত্যা করে এই আকবর।

২০০৭ সালে চাকরি শুরু করে ২০১৪ সালে এসআই হয়েছে সে । মূলত পদন্নতি পেয়েই আলাদীনের প্রদীপের মতো ভাগ্য বদলাতে থাকে তার ।তার বাবাও ছিল ধর্ষণ মামলার আসামি। স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় সেই মামলা খুব বেশি এগোয়নি। তার বাড়ির আশপাশের লোকজন জানান, ক্ষমতাসীন দলের সাথে পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় সহজেই টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েছিল সে।

পাঁচ ভাই- বোনের মধ্যে দ্বিতীয় আকবর। পুলিশে চাকরি পাওয়ার পর নিজ গ্রামের বাড়ি ও জায়গা-জমিসহ অঢেল সম্পদ গড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুরোনো ঘর ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে আলিশান বাড়ি।
প্রথম তলার কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছে। পাশপাশি বাড়ির সামনে নির্মাণ করছে আধুনিক গেইট। যার নির্মাণ কাজ চলছে এখনো।

তবে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় এখন নিজ গ্রামেও সমালোচিত হচ্ছে আকবর।

কীভাবে আলিশান বাড়িসহ এত সম্পদের মালিক হয়েছে সেই আলোচনা এখন গ্রামের সবার মুখে। অনেকে পুলিশ কর্মকর্তা আকবর ও তার পরিবারের অঢেল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার বগৈর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পুলিশে চাকরি হওয়ার পরই অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন আকবর। তিনি যে ঘটনা ঘটিয়েছেন সেটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং আশুগঞ্জের মানুষের জন্য কলঙ্ক। তাই আশুগঞ্জকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য বন্দরবাজার ফাঁড়ির ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করে আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই ফেইসবুক স্ট্যটাসের মাধ্যমে জানান, তার ভাই এস আই আকবর এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে না।

স্বাআলো/কে

আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি বলেন, আকবর যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তা পুরো আশুগঞ্জের জন্য লজ্জার। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আকবর দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানাই।

আশুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মারুফ আহমেদ রনি বলেন, বিষয়টি আশুগঞ্জের জন্য লজ্জাজনক ও নিন্দনীয় কাজ। পাশপাশি পুলিশ কর্মকর্তা আকবর হোসেন ভূইঁয়া যদি দোষী সাব্যস্ত হন তবে তিনি তার বিচার দাবি করেন। আশুগঞ্জ উপজেলার যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোবারক হোসেন বলেন, আমরা অপরাধীর বিচার চাই, সে যেই হোক না কেনো।