স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাকি স্প্যানগুলোও প্রস্তুত

36

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩২টি স্থাপন করা হয়ে গেছে। বাকি ৯টি স্প্যানও প্রস্তুত করা সম্পন্ন।

শনিবার সকালে সর্বশেষ স্প্যানটিও প্রস্তুত করা সম্পন্ন হয়েছে। তবে পিয়ারে বসানোর আগে স্প্যানগুলো রঙ করা হয়ে থাকে। ৯টি স্প্যানের মধ্যে ছয়টি স্প্যানের রঙ করা শেষ হয়েছে। রঙ করা বাকি আছে তিনটি স্প্যান।

পদ্মা সেতুর একাধিক প্রকৌশলী এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

গত ১১ অক্টোবর সেতুর ৩২তম স্প্যান বসানোর পর দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৪.৮০ কিলোমিটার। ভিন্ন ভিন্ন মডিউলে স্প্যান বসানোর কারণে সেতুর দৃশ্যমান অংশ একাধিক অংশে বিভক্ত। সেতুর জাজিরা প্রান্তে ২০টি, মাঝের একটি ও মাওয়া প্রান্তে ১১টি স্প্যান বসে গেছে। ৩৩তম স্প্যান বসানো হবে আগামী ২০ অক্টোবর।

জানা গেছে, এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই বাকি ৯টি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মূল সেতুর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি)।

নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, অফিশিয়ালি আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু, বর্ষা মৌসুম ও করোনার কারণে অনেক কাজ শিডিউল মোতাবেক করা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। আরো সময় লাগবে। আগামী ডিসেম্বরে স্প্যান বসানো শেষ হলেও স্ল্যাব বসানো, গ্যাস সংযোগ, রেললাইন সংযোগের কাজসহ আরো কাজ বাকি। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে রেলের কিছু স্টিল বার পানিতে তলিয়ে গেছে। হয় সেগুলো তুলতে হবে, না হয় নতুন করে আনতে হবে। এসব কারণে সেতুর কাজ শেষ হতে কিছুদিন সময় বেশি লাগবে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৫০ ভাগ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৭ দশমিক ৫৫ ভাগ। নদী শাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ৫০ ভাগ। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ৭৯৬ দশমিক ২৪ কোটি টাকা।

নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, আগামী ১৯ অক্টোবর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই তে করে পিলারে বসানোর উদ্দেশে রওনা দেবে ১-সি স্প্যান। ২০ অক্টোবর মাওয়া প্রান্তের পিয়ার-৩ ও পিয়ার-৪ এর ওপর বসানো হবে স্প্যানটি।

ভরা বর্ষায় পদ্মা নদীতে ছয় মিটারের বেশি পানি ছিল। এতে তীব্র স্রোতের কারণে ভাসমান ক্রেন নোঙর ও পজিশনিং করা সমস্যা হওয়ায় প্রায় চার মাস কোনও স্প্যান বসানো সম্ভব হয়নি। তবে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ায় পুনরায় কাজের গতি ফিরেছে।

তাছাড়া, করোনাভাইরাসের কারণেও চীনে আটকে পড়া সেতুর চীনা প্রকৌশলী ও অন্যান্য কর্মীর কারণেও সেতুর কাজ কিছুটা ধীর গতিতে চলছিল। তবে এখন সেসব সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠে আবার আগের গতিতে ফিরছে কাজ।

স্বাআলো/এসএ