ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দ্রুত বিচার প্রয়োজন

মকবুল হোসেন : ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে সম্প্রতি অধ্যাদেশ জারি হলেও ধর্ষণ কিন্তু থেমে নেই। গত ১৩ অক্টোবর অধ্যাদেশটি জারি করার পর বেশ কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে একটি ধর্ষণ মামলার রায়ে ৫ জনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। তবুও ধর্ষণ চলছে। থামার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা।

মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারির মূল কারণ ছিল অপরাধীদের মধ্যে ভয়ভীতির সৃষ্টি হবে। তাদের মনে ধর্ষণের প্রবণতা কমে আসবে। সমাজে অপরাধ ও অপরাধীর সংখ্যা কমে যাবে মৃত্যুদন্ডের ভয়ে এবং অ্যাসিড সন্ত্রাসের মত অপরাধ একসময় শুণ্যের কোটায় নেমে আসবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে অধ্যাদেশটি ধর্ষণকারীদের মাঝে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি।

মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কোনভাবেই চিন্তা করতে না পরে যে তারা দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আইনের ফাঁক ফোঁকড় দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবে। তাহলে তারা ধর্ষণ থেকে নিবৃত্তের পরিবর্তে উৎসাহিত হবে। ধর্ষণ মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকর করতে হবে। তাহলেই সম্ভব অপরাধিদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা।

মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারির পূর্বে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্তু মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দীর্ঘদিন পরও সেই রায় কার্যকর হতোনা। ফলে ধর্ষণ কমার বদলে  বেড়ে গেছে। দুর্বলের ওপর নির্যাতনকারীরা সবসময় প্রভাবশালী হয়। বিশেষ করে ধর্ষণকারিরা ক্ষমতাধারী ব্যক্তি হয়। কারণ এরা সমাজে প্রভাবশালী হওয়ায় নির্যাতিতারা ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে অধিকাংশ ধর্ষণকারী  প্রভাব খাটিয়ে অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়ার পথ খোঁজে।

সমাজে ধর্ষণ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার ফলে সরকার ধর্ষণ নামক ব্যাধি সমাজ থেকে নির্মূল করার লক্ষ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ সংশোধন করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যদন্ডের বিধান করে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার বিধান রেখেছেন। আর বিচারের সেই রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ফলে অপরাধীদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি হবে। যত দ্রুত যত বেশি মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকর করা হবে ধর্ষণ প্রবণতা কমতে বাধ্য।

এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দু’চারটে ধর্ষণ মামলার মৃত্যুদন্ডের রায় দ্রুত সাথে কার্যকর করার। ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকরের খবর অবশ্যই ধর্ষণকারীদের মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। ফলে দ্রুতই ধর্ষণের ঘটনা কমে আসবে এমন মন্তব্য অপরাধ বিশেষজ্ঞদের।

আশা করা যায় অল্প কিছুদিনের মধ্যে এই আইনের সফল প্রয়োগের সুফল নির্যাতিতা ও তার পরিবাররা ভোগ করতে পারবে। সমাজ ও সমাজের মানুষ এই জঘন্য ও বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার হাত থেকে রক্ষা পাবে। স্বাআলো/কে

লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক

সর্বশেষ খবর জানতে চোখ রাখুন স্বাধীন আলোয়