চির অপেক্ষা

কত কাল ধরে কত যুগ পরে নাহি হলো আর দেখা,
হৃদয় করিয়াছ শূন্য মরু
দিয়াছ জটিল ব্যথা।

কত শান্তময়ী নিঝুম রাতে
ঘুম নাহি কভু আসে,
রিক্ত মনের ব্যথার দরুন
চোখ দুটি জলে ভাসে।

সখের ভুবনে করিয়াছি ভুল
আশায় বাধিয়া বুক,
আহাজারি মনে রোনাজারি করে কাঁদিয়া ভাসায়ে মুখ।

কতদিন রবে কতদিন যাবে
বহিয়া অগ্রপানে,
চির অপেক্ষায় কাটিবে রজনী মহাকালের ঐ টানে।

স্বপ্ন গড়া প্রাসাদ আমার
হবে নাহি কভু সত্য,
নিছক আশার গড়া বাসায়
হয়েছি দারুণ মর্ত্য।

চেয়েছি যাহা পায়নিকো তাহা সেকি চেয়েছে মোরে?
হৃদয় কথা বুঝিতে পারিনি
রহিনু অন্ধ ঘোরে।

দিয়াছি সবি নাহি কিছু বাকি রহিয়াছে মোর প্রাণ,
পিছু টানে মোর গিয়াছে সবই
যাহা করিয়াছি দান।

হৃদয় মাজারে করিয়া পূজা কাটিল দিবস রাত্রি,
নভ তারার খেলা দেখিয়া
হৃদয়ে দিয়াছি ভাতি।

কোন সে ফুলের গাথিয়া মালা ফুরাইলো যাহার ঘ্রাণ,
সহস্র মাস গিয়াছে চলি তাহা করিব কাহারে দান।
অরন্যে রোদন করিয়াছি ওরে দুখ নাহি তব মম,
খুঁজিবে আমারে বুজিবে যেদিন লাভ হবে নাকো তব।

হয়তো কভু দুনিয়া ছাড়ি
পাড়ি দেব দুর দেশে,
স্নিগ্ধ রজনী পাবে আমারে
তারা জোনাকির মাঝে।

নিরুপায় মন বুঝিবে যেদিন
নাহি পাবে মোরে কাছে,
কালক্রমে যাহারে বুঝিয়াছি ওরে সেইতো বোঝেনি মোরে।

কতকাল ধরে কতপ্রেম ভরে করিয়া তাহার আশা,
অপেক্ষায় চির নিদ্রা জাগিয়া হারায়ে মুখের ভাষা।

শীত বসন্ত আসিয়াছে কত ডাকিয়াছে কত পিক,
স্নিগ্ধ আখি জল ঝরায়েছে চাহিয়া বাটের দিক।

স্রষ্টার কাছে করিলাম আরজ দিওগো তাহারে সুখ,
মরণের কোলে বাচিয়া থাকিব দেখিয়া তাহার মুখ।

হিমেল আজাদ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ।

স্বাআলো/এসএ