অধিকাংশ এমপি নিক্সনের পক্ষে

নির্বাচন কমিশন নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা করেছে। ঐ মামলায় মঙ্গলবার হাইকোট থেকে জামিন নিয়েছেন। তবে, নিক্সন চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসকের দ্বন্দ্বে অধিকাংশ সংসদ সদস্যই নিক্সনের পক্ষে। প্রকাশ্যে তারা কথা বলছেন না, কিন্তু ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়, অনেক সংসদ সদস্যই বলেছেন জেলা প্রশাসকদের আচরন সহ্যের বাইরে চলে গেছে।

আসন্ন সংসদ অধিবেশনে এই বিষয়টি তারা উত্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য বলেছেন,আমি যে একজন এমপি এটা জেলা প্রশাসকের মাথায় নাই। তাকে টেলিফোন করলে ফোন ধরে না। এলাকার কোন বিষয় সুপারিশ করলে তা শোনে না। এলাকার কাজ কর্ম নিয়ে ডিসি সাহেব আমার সঙ্গে কোন পরামর্শই করে না।

উত্তরাঞ্চলের একজন এমপি বলেছেন করোনার আগে ডিসি সম্মান টম্মান করতো। এলাকায় গেলে দেখা সাক্ষাৎ করতো। বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়ে পরামর্শ করতো। কিন্তু এখন কোন যোগাযোগই করে না। কোন বিষয়ে পরামর্শ দিলে উল্টা করে। তিনি বলেন, ত্রান বিতড়নের জন্য আমি ডিসি সাহেবকে একটা তালিকা দিয়েছিলাম। তিনি ঐ তালিকায় থাকা একজনকেও ত্রান দেননি। ঐ এমপি বলেন, আমারও মাঝে মাঝে নিক্সনের মতো ফোনে ডিসিকে গালি দিতে ইচ্ছা করে।

আরো পড়ুন>>>‘আমার নেতা-কর্মীদের জন্য ফাঁসির মঞ্চেও দাঁড়াতে প্রস্তুত আছি’

তিনি বলেন, ডিসিতো চাকরি করেন। তিনি কয়েক বছর চাকরি করে চলে যাবেন। এলাকার ভালো হলো না খারাপ হলো এনিয়ে তার মাথাব্যাথা থাকবে কেন? কিন্তু আমরা যারা এমপি, তাদের তো আবার জনগনের কাছে যেতে হবে। ভোট চাইতে হবে। জনগনের জন্য যদি কিছুই না করতে পারি, তাহলে ভোট চাইবো কিভাবে? বিভিন্ন এমপির সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে,করোনার পর থেকেই জেলা প্রশাসকরা আর এমপিদের কথা শুনছেন না। তারা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব এবং মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। ফলে নিক্সনের মতো বড় আকারে না হলেও প্রায় প্রতিটি জেলাতেই ডিসির সঙ্গে এমপিদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হচ্ছে। কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই কিছু না কিছু কথা কাটাকাটির খবর পাওয়া যায়। অনেক এমপিই মনে করেন, নিক্সনের ঘটনায় একদিক থেকে এমপিদের লাভ হয়েছে। এখন কিছুটা হলেও ডিসিদের পা মাটিতে নামবে।

স্বাআলো/আরবিএ