ধর্ষিতা অঙ্গনা

আমি দেখিনি একাত্তরের

সেই ভয়াবহ বিষম লেটা,

শুনেছি ধর্ষিতা জেনানার করুণ আর্তনাদ।

আমি হারিয়ে ফেলেছি মুখের নিহাস…

আমি বিহ্বল, আমি নিঃস্তব্ধ, আমি গমকিন

পাকহানাদারের দঙ্গল ছিল এমন…

গমিষ্ট-খবিশ-পিশাচ জানোয়ারের ন্যায় উন্মাদ!

অপলক নেত্রে চেয়ে থাকি আর ভাবিবোধ ঐ বরবাদ চিত্র।

দু’চোখে ঝরে লোর

কাটে না মোর ঘোর…

আমি প্রতিবাদী, আমি সংগ্রামী, আমি নির্ভীক

ধিক্কার জানাই ঐ পাকবাহিনীর পাশবিক অত্যাচার!

ছাড় বা’জান সেই প্রাণনাশ একাত্তরের কথা।

আমি আর মনে করিতে চাই না ঐ নৃশংস কাতিলের হেতু।

তুমি কি জানো এই একবিংশ শতাব্দীর কথা?

যে একবিংশ শতাব্দী অদ্য কেড়ে নিচ্ছে শত শত…

মা-বোনের প্রাণ, হচ্ছে ধর্ষিতা!

তুমি কি জানো এর বারতা?

আজ মোরা হার মানিয়েছি জাহেলী যুগ,

আর একাত্তরের মতো নারকীয় নাট্যমঁচ,

হে করতার আর দেখব কত শত শত

প্রসূতি-আত্মজার নিখোঁজের উদ্দেশ।

শুনেছি হরদম রজনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্ত্বরে এক ধর্ষিতা অবলার

ধর্ষকের পালিত সেঞ্চুরি উদযাপন,

নির্নিমেষ নেত্রে দেখিলুঁ তনুশ্রীর মতো কলেজ পড়ুয়া তনয়ার

পশুত্বব্যঞ্জকের ন্যায় গাত্র ভক্ষণ।

আমি সন্তপ্ত, আমি মর্মাহত, আমি ভাবিত

অদ্য নিজেকে সমজ করি এটাই কি সমাজ?

যে সমাজে নেই কোন নিরাপত্তা

আছে ধর্ষিতার লাপাত্তা।

আজ বড্ড ভয় হয় মা-বোনের নিকেতনের বাইরে পাঠাতে,

বড়ই অনিশ্চিত জীবন-মরণের প্রশ্ন

ঐ পৈশাচিক-কদাচারী জানোয়ারদের থেকে রক্ষা পেতে!

আমি নিন্দা জানাই এই ঘৃণিত বর্বরতাকে

এটা বড়ই নিপীড়ন, কলুষে পরিপূর্ণ দেশ।

জাতির কাছে মোর সহস্রক প্রশ্ন এর কি আছে অশেষ?

সিরাজসুমন, সরকারি এম এম কলেজ, যশোর। এমএ (মাস্টার্স) ১৮তম ব্যাচ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।

স্বাআলো/এসএ