এরশাদ বিহীন নির্বাচন, রংপুরে জাতীয় পার্টির ভরাডুবি

রংপুর: জাতীয় পার্টির দূর্গখ্যাত রংপুরে অনুষ্ঠিত চার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভরাডুবি হয়েছে। এরশাদ বিহীন এবারের এই নির্বাচনে লাঙ্গল ম্যাজিক কোন কাজে লাগেনি।

এতে করে রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট, হরিদেবপুর, সদ্যপুষ্কুরিণী ও তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। আর ভরাডুবি হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এক সময় রংপুরের মানুষ এরশাদ এবং লাঙ্গল মার্কাকেই চিনতো। তারা এরশাদকে ভালোবেসে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিতো। সেকারণেই রংপুর ছির জাতীয় পার্টির র্দুগ। এখন এরশাদ নেই। তাই জাতীয় পার্টির সেই জনপ্রিয়তাও নেই। দিন দিন রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে জাতীয় পার্টির হারিয়ে যাচ্ছে। ইউপি-উপজেলা এমনকি সংসদ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর ভরাডুবি হচ্ছে। অনেকস্থানে প্রার্থীরা জামানত পর্যন্ত হারাচ্ছেন। এতে স্পট বুঝা যাচ্ছে এরশাদের কারণেই জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা ছিল। প্রার্থীরাও জিতেছেন। এখন এরশাদ নেই তাই জাতীয় পার্টি দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে লাঙ্গল ম্যাজিক কোন কাজে আসছে না।

তবে রংপুর জেলার জাতীয় পার্টির নেতারা শক্তিশালী দল গঠনের কথা জানালেও সাম্প্রতিক ইউপি নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

মঙ্গলবার রাতে রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, চার ইউপির একটিতেও বিজয়ী প্রার্থীর ধারেকাছে ঘেঁষতে পারেননি জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। ৮০ শতাংশ ভোটার নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেননি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীরা।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হরিদেবপুরে বিজয়ী প্রার্থী পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৬ ভোট। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৭৯৬ ভোট। সদ্যপুষ্করিনী ইউপিতে বিজয়ী প্রার্থী পেয়েছেন ছয় হাজার ৫৬০ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ৬ হাজার ১২৭ ভোট। চন্দনপাট ইউপিতে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬০৮ ভোট। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৩৭৮ ভোট। তারাগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর আলমপুর ইউপিতে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৯০৩ ভোট। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ২ হাজার ১০৭ ভোট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে চারটি ইউপিতেই আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্রসহ অন্য দলের প্রার্থী-সমর্থকরা প্রচার-প্রচারণায় সরগরম ছিল। সেই তুলনায় জাতীয় পার্টির প্রচার-প্রচারণা কমতি ছিল। সমন্বয়ের অভাব ও ত্যাগীদের অবমূল্যায়নের কারণে বেশীর ভাগ নেতাকর্মী মাঠেই দেখা যায়নি। এসব কারণেই কারণেই এমন ভরাডুবি হয়েছে বলে জানান ভোটাররা।

অন্যদিকে পার্টির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় যুব সংহতির রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলাল উদ্দিন কাদেরী শান্তি বলেন, রংপুরে জাতীয় পার্টির এমপি, সিটি মেয়র ও উপজেলার দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান থাকার পরেও আমরা একটি ইউনিয়নে জয় আনতে পারেনি। এটা আমাদের বড় ব্যার্থতা। কারণ আমরা এখনো সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল। নেতারা কর্মীদের মূল্যায়ন না করায় এ পরিস্থিতি বলে মনে করেন তিনি।

রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ চলছে। শিগগিরই রংপুরে পুরোনো অবস্থান ফিরে পাবে জাতীয় পার্টি।

স্বাআলো/আরবিএ