অদৃশ্য বোবা কান্না

সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন একদল বিনিদ্র মানুষ জেগে থাকে তার শত সহস্র দুঃখের কারণ বুকে নিয়ে। যার যন্ত্রণার তীব্রতা আগুনে পোড়ানো ইস্পাতের চাইতে বেশি। একটি নির্ঘুম রাত্রির পিছনে রয়েছে অদৃশ্য বোবা কান্নার ছাপ। যেখানে ক্ষনে ক্ষনে মন ব্যথার প্রহারে যন্ত্রণাকাতর হয়ে ওঠে। যা অন্যদের কখনো দেখানো সম্ভব হয় না। জীবনকে তখন অনেকের কাছে চরম তিতা লাগে। এ সময়ে নিস্তব্ধতা হৃদয়কে বিষিয়ে তুলে। চেতনায় পৃথিবীকে তখন মনে হয় হয় আলাদা কোনো বাসগৃহ।

রাতের গভীরে এই বিমর্ষময় মূহুর্তে মনের কোনে জেগে উঠে হাজারো দৃশ্যপট। আমাদের হাতের নাগালে থাকা অনেক কিছুই ভাগ্যের ফাঁক ফোকরে বেরিয়ে যায়। যেটা ধরবার মতো ইচ্ছা এবং সময় থাকা সত্ত্বেও সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই সবকিছু নির্দ্বিধায় ভাগ্য লেখেনির কাছে ছেড়ে দিতে হয়। আর এ সময়ের কষ্ট নিবারনে অনেকেই সাহায্য নেয় নিকোটিনের মতো কালো ধোঁয়ার। যেটা ভেতরের আমিটাকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে সান্ত্বনার নদীতে ভাসায়। যেখানে মৃত্যু নামক ঢেউ প্রতিনিয়ত তাদেরকে আঘাত করে।

রাতজাগার এই সহস্রাধিক কারণের কয়েকটি হলো সম্পত্তির বিনাশ, প্রিয়জনকে হারানো অথবা অনিচ্ছাকৃত করা কোনো ভুল। আর এ কারণেই হয়তো চিন্তার চাউনিতে ছেয়ে যায় এসব মানুষের মনঘরে। যা দু’শ ছয়টি হাড়ে মোড়ানো দেহটাকে সহজে বিশ্রাম নিতে দেয় না। মনে হয় একবুক জ্বালা হৃদয়ে ধারণ করে মহাকালের দিকে তারা ছুটে চলেছে। তবে রাত যখন তার গতি ফুরিয়ে ভোর হবার প্রান্তে তখন এই বিনিদ্র মানুষেরা জাগ্রত থাকে শুধুমাত্র তার কষ্টকে লালন করে।

ফয়জুল হক, সরকারি এম এম কলেজ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, অনার্স চতুর্থ বর্ষ।

স্বাআলো/এসএ