প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শীতায় করোনা নিয়ন্ত্রণে

মকবুল হোসেন 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, রাষ্ট্রনায়কোচিত সঠিক পদক্ষেপ ও দূরদর্শিতার কারণে আশংকা থাকা সত্ত্বেও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করলেও বাংলাদেশে সময়োপযোগী ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে তা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করতে পারেনি।

বুদ্ধিদৃপ্ততা ও বিচক্ষণতার কারণে প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তিনি বারবার দেশের স্বাস্থ্য বিভাগকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে। আমরা দেখেছি  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত উপায়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল ফলে এদেশে নূন্যতম প্রাণহীন ঘটেছে।

লক্ষণীয় বিষয় করোনাভাইরাস মোকাবেলার লক্ষ্যে দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে ব্যাপকভাবে সচেতন করার কাজে নিয়োজিত করা সম্ভব হয়েছিল। পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ ও মৌখিকভাবে সচেতন করার জন্য তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আমরা দেখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস সঠিকভাবে মোকাবেলার জন্য ৩২ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা মোতাবেক কাজ হওয়ার ফলে দেশের করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল।

দেশের জনগণ দেশনেত্রীর দূরদর্শিতার পরিচয় পেয়েছিলেন করোনা পরিস্থিতি বিস্তার লাভের আগে থেকেই। তাঁর নির্দেশে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর ভর্তি ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। কয়েকটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করা হয় করোনা রোগীদের সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য। দেশে করোনা আক্রান্তদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে করোনা রোগীর টেস্ট ২০ হাজারে উন্নিত করা হয়। করোনা টেস্টের জন্য পর্যাপ্ত কীট সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের মাঝে পর্যাপ্ত পিপিই ও মানসম্মত মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে তাঁরই নির্দেশনায়। সবকিছু তিনি নিজে মনিটারিং করেছেন। করোনা কালে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি রোধ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। দুর্নীতিবাজদের তিনি আইনের আওতায়। আনার ব্যবস্থা করেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য তিনি বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তার নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদদের আইসোলেশনে থাকা ও খাওয়ার জন্য হোটেলের ব্যবস্থা এবং ঝুকি ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলেন। কারণ তিনি জানতেন এদের সবধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলে তারা করোনা রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারবেন না। সবকিছু ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূরদর্শিতার পরিচয়। তিনি সব সময় জাতির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। জাতির ভালোমন্দ চিন্তা করেই তিনি সবসময় নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি তাঁর দূরবর্তী চেতনা থেকে প্রত্যয়ের সাথে বলেছেন,আগামী শীত মৌসুমে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে ফলে করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশের স্বাস্থ্য বিভাগকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন করোনা আক্রান্ত সবধরনের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও দূরদর্শীতা দিয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছেন আগামী শীত মৌসুমে করোনা হানা দিলেও যাতে মহামারী আকার ধারণ করতে না পারে সেজন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা ।হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব বাঁধা বিপত্তি মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। দেশের প্রতিটি মানুষ আছে তাঁর পাশে। : লেখক প্রবীণ সাংবাদিক ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক

স্বাআলো/কে