চালু হওয়ার আগেই দেড় কোটি টাকার সরকারি ভবনটি পরিত্যক্ত

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাণি সংগনিরোধ কেন্দ্রটি নির্মাণের দেড় বছরেও চালু হয়নি। সেই থেকে ভবনটি এক প্রকার পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ছয় শতক জমির ওপর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাণি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় প্রাণি সম্পদ সংগনিরোধ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়। এই কেন্দ্রটি নির্মাণের পর চুয়াডাঙ্গা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কাছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর করে ২০১৮ সালে। ভারত থেকে বৈধভাবে আসা প্রাণির ঔষধ ও ভ্যাকসিন দেয়া এবং প্রাণি ৭ থেকে ১৪ দিন এই কেন্দ্রে রেখে রোগ নির্ণয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়।

কিন্তু বর্তমানে এ স্থাপনায় কোন কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দিনে ও রাতে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া দুজন প্রহরী ভবনটি পাহারা দেন।

সরেজমিনে দর্শনার জয়নগর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, প্রাণি সংগনিরোধ কেন্দ্রটির কোন স্থানেই সাইনবোর্ড নেই। বৃষ্টির পানিতে ভবনের দেয়াল বিবর্ণ হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ওপরের কিছু অংশে পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানান, দেশের ২৫টি স্থানে ‘লাইভ স্টক কোয়ারেন্টাইন’ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র ঢাকা বিমানবন্দর ও যশোরের বেনাপোলে কেন্দ্র চালু রয়েছে। প্রকল্পটি রাজস্বখাতে আসলেও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, সাতক্ষীরার ভোমরা ও বাগেরহাটের মোংলায় প্রাণি সংগনিরোধ কার্যক্রম চালু করা যায়নি। কেন্দ্রটি চালু করতে গেলে একজন সহকারী পরিচালক, একজন ভেটেনারী সার্জন, দুজন টেকনেশিয়ান এবং একজন করে অফিস সহায়ক ও অফিস সহকারী প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে নির্মিত প্রাণি সংগনিরোধ কেন্দ্রের নিচে অফিস রুম, ল্যাবরেটরি, প্রাণি চিকিৎসা করানোর স্থান এবং ওপরে আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। জনবল নিয়োগ হলেই এ দপ্তরের কার্যক্রম শুরু হবে।

অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যখন ভবনটি হস্থান্তর করে তখনই তারা কোন সাইনবোর্ড দিয়ে যায়নি। এখনও সেটা করা যায়নি।

স্বাআলো/আরবিএ