যশোরের সেই ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন

যশোরের চুড়ামনকাটি এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা হত্যা মামলায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোন।

আটক আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৩) সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ও সহিদুল ইসলাম (৩৭) শাখারীগাতী গ্রামের বাসিন্দা।

আটক আব্দুল্লাহ আল মামুন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আর তাকে সহযোগিতা করে সহিদুল ইসলাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন।

তিনি জানান, আটককৃতরা এলাকায় কাঠের ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গোলাম মোস্তফাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর বিকালে ব্যবসায়ীক কাজে বাড়ি থেকে বের হন মোস্তফা। পরদিন সদর উপজেলার ঘোনা গ্রামের বুড়ি ভৈরব নদীর পানিতে গোলাম মোস্তফার লাশ পাওয়া যায়। ২৬ অক্টোবর নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হওয়ায় মামলাটি কোতোয়ালি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি টিম মাঠে নামে। সেই তদন্তের ভিত্তিতে বুধবার রাতে চুড়ামনকাটি থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মোড়লী মোড়ে অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে রাতে আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়ির মধ্যে টিউবওয়েল পাড়ে লাকড়ির নিচে রাখা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল্লাহ আল মামুন পুলিশকে জানায়, গোলাম মোস্তফা ও মামুন কাঠ ব্যবসায়ী। একচ্ছত্র ব্যবসা করার জন্য আব্দুল্লাহ আল মামুন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার সহযোগী সহিদুল ইসলামকে নিয়ে ২৪ অক্টোবর বিকালে শহিদুলকে কাঠ ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে কাঠ ক্রয়-বিক্রয়ের আলোচনা করে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল যোগে চৌগাছা থানাধীন শলোয়া এলাকায় নিহত মোস্তফাকে নিয়ে ফেনসিডিল খাইতে যায়। পরে নেশাদ্রব্য গাঁজা সেবন করিয়ে অতর্কিতভাবে গলায় চাকু দিয়ে পোচ মেরে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর লাশটি নদীতে ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেয়।

স্বাআলো/এসএ