‘ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে’

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, দেশের ৯৮ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বাকি দুইভাগ আগামী দুই মাসের মধ্যে পূরণ হবে। সে লক্ষ্যেই বিদ্যুৎ বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার অনলাইনে এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত ‘পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র: সময় মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদাহারণ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় দেশের বিদ্যুৎ খাতের অর্জন তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘অর্জন প্রকাশিত হলে দেশের ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে আরো উজ্জ্বল হবে। বিদেশিরা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক শাহ আব্দুল মওলা হেলাল। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, পরিবেশবান্ধব যন্ত্রাপাতির ব্যবহার, কয়লা সরবরাহ ও পরিবহন, বিদ্যুৎ ইভাকেশন, পুনর্বাসন, নিরাপদ ও নিরাপত্তা বিধান সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন।

দ্রুত উন্নয়নের ফলে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিবি) এবং চায়না মেশিনারি এমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) যৌথ উদ্যোগে ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) গঠিত হয়।

কোম্পানিটি পটুয়াখালীর কলাতলা উপজেলার ধানখালী ইউনিয়ন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প শুরু করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকল্পে গত ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) এবং এনইপিসি ও সিইসিসি, চায়না-এর কনসোর্টিয়ামের মধ্যে ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট এবং কন্সট্রাকশন) চুক্তি সই হয়।

জানুয়ারি ২০২০-এ প্রথম ইউনিট এবং সেপ্টেম্বর ২০২০-এ দ্বিতীয় ইউনিট সিংক্রোনাইজ করা হয়। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের নভেম্বরে সিওডি (কমার্শিয়াল ওপেনিং ডেট) সম্পন্ন হবে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে এখন ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। এর মধ্যে সরকারি চারটি, বেসরকারি সাতটি, জয়েন্ট ভেঞ্চার পাঁচটি। সর্বমোট ১৫ হাজার ৭৫২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বাস্তবায়নাধীন। লক্ষ্য স্থির রেখে একাগ্রচিত্তে নেতৃত্ব দিতে পারলে সাফল্য আসবেই। বিদ্যুৎ খাত তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।’

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার পত্রিকার সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরোজ আলম, বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক কাজী বায়োজিত কবির ও নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার এ এম খোরশেদুল আলম বক্তৃতা করেন।

স্বাআলো/এসএ